সম্পাদকীয়

যমুনা অয়েলে করপোরেট কালচার প্রতিষ্ঠা করুন

দেশের সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতির নজির থাকলেও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ বেশি। ফলে কাক্সিক্ষত সেবা তো মিলছেই না, উল্টো নানাভাবে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। শুধু বিশেষ কোনো শ্রেণি নয়, অনেক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার নজির রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মান নিয়ে অভিযোগ ক্রমেই জোরাল হচ্ছে। এর সঙ্গে নিয়োগে অনিয়ম পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা না গেলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

‘অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স প্রধান নিয়োগ: পরিচালনা পর্ষদকে পাত্তা দিচ্ছে না যমুনা অয়েলের এমডি’ শিরোনামে গতকালের শেয়ার বিজে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, যমুনা অয়েল বোর্ড কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স প্রধানকে বাদ দিয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ জ্বালানি কোম্পানির ক্ষেত্রে পদ্যচুতি ও নতুন নিয়োগে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। বিএসইসি-সংশ্লিষ্টদেরও বিষয়টি জানানো হয়নি, যা করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করছেন অনেকে। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিয়োগে এ ধরনের অনিয়ম গ্রহণযোগ হতে পারে না।

সরকারি-বেসরকারি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন সংগ্রহের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ব্যাংক ও পুঁজিবাজার। এর মধ্যে ব্যাংক মূল উৎস হলেও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে খাতটিতে মানুষের আস্থা তলানিতে পৌঁছেছে। আর পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ প্রক্রিয়া কঠিন ও জটিল হওয়ায় তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে আস্থা ধরে রাখতে পারছে না। প্রতিষ্ঠানগুলোয় অনিয়ম-দুর্নীতি হলে তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভুল বার্তা দেবে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে এ ধরনের অনিয়ম হলে অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানেও তা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বিএসইসি ২০১৮ সালে করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড বাস্তবায়ন করে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি তৈরি হয়। কিন্তু তালিকাভুক্ত যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি না নিয়ে আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধানকে সরিয়ে দেন। শীর্ষ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অপছন্দের কারণে এ ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বিএসইসি, ডিএসই ও সিএসইসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবহিত করা হয়নি, যা করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শাস্তি পাওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত সব প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..