যমুনা নদীর প্রস্থ বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া হোক

দেশের প্রধান তিনটি নদীর একটি যমুনা। এ নদী দেশের উত্তরাঞ্চলকে রাজধানীর সঙ্গে পৃথক করেছে। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য এলাকার সংযোগ বাড়াতে গত শতাব্দীর শেষ দিকে চালু করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু সেতু। স্বাভাবিকভাবেই সেতু নির্মাণের সুবিধার্থে নদী শাসন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এ নদীতে যে চ্যালেঞ্জের উদ্রেক হয়েছে, তা হলো এর প্রশস্ততা কমে যাওয়া। ঠিকমতো ড্রেজিং না করায় একদিকে পলি জমে নদীর মূল গতিপথ রুদ্ধ হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে মূল নদীর প্রশস্ততা কমে যাওয়ায় নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে যমুনা নদী ড্রেজিংয়ের জন্য আশু উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘সেতু বিভাগের প্রতিবেদন: ৫ কিলোমিটার প্রশস্ত যমুনা নদী এখন মাত্র ৭০০ মিটার!’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বঙ্গবন্ধু সেতু সংলগ্ন এলাকায় যমুনা নদীর প্রস্থ পাঁচ কিলোমিটারের কাছাকাছি হলেও পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে নদীর মূল চ্যানেলের প্রস্থ কমে মাত্র ৭০০ মিটারে নেমে এসেছে। আবার নদীর মূল চ্যানেল ক্রমেই বাম তীরের দিকে সরে যাচ্ছে। ফলে ওই এলাকায় নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে প্রতি বছরই বঙ্গবন্ধু সেতু সংলগ্ন এলাকায় নদী ভাঙছে। বর্ষাকালে এ ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে।

যমুনা নদীর বিষয়ে এমন তথ্য রীতিমতো উদ্বেগজনক। এমনিতেই প্রতি বছর যমুনা নদীর পাড় সংরক্ষণে ১০০ কোটি টাকার ওপরে অর্থ ব্যয় হয়। এভাবে নদীর মূল চ্যানেল পরিবর্তনজনিত কারণে যদি ভাঙন প্রবণতা আরও বাড়তে থাকে, তাহলে তা রক্ষণাবেক্ষণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। এতে করে হুমকিতে পড়বে দেশের প্রথম সর্ববৃহৎ অবকাঠামো বঙ্গবন্ধু সেতু। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে যমুনা নদীর ভাঙন রোধে সমন্বিত পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।

বাংলাদেশ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বদ্বীপ। এ ভূখণ্ড দিয়ে শিরা-উপশিরার মতো প্রায় ৭০০ নদী বয়ে চলেছে। তবে নাব্যর সংকট ও উজানের দেশ বিভিন্ন নদীতে বাঁধ নির্মাণ করার ফলে বেশকিছু নদী মরা খালে পরিণত হয়েছে। আর প্রধান প্রধান নদীগুলোয় পলি জমার কারণে গভীরতা কমে যাচ্ছে। কিন্তু এ গভীরতা পুনরুদ্ধারে নদীগুলো নিয়মিতভাবে ড্রেজিং করা হচ্ছে না। ফলে বর্ষাকালে উজানের পানির চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে; যা বিপুল পরিমাণ এলাকাকে প্লাবিত করে। প্রতি বছরই বন্যার কবলে পড়ে দেশের লাখ লাখ মানুষ। এ বন্যার কারণে ফসলহানিসহ নানা ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়। এ ক্ষতি প্রশমনে নদীগুলোর নাব্যর সংকট নিরসন করা ও গতিপথ ঠিক রাখতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংসহ নিয়মিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং পরিচালনা করা আবশ্যক। সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি ভেবে দেখবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..