প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

যশোরে উফশী পাটবীজ উৎপাদনে সফল কৃষক

মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর: বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ‘তোষা পাট-৮’ এর পরীক্ষামূলক বীজ উৎপাদনে সফল হয়েছেন যশোরের চাষিরা। কৃষকপর্যায়ে পাটের বীজ উৎপাদনে সফল হওয়ায় এ নিয়ে নতুন আশা দেখছেন কৃষি বিভাগ। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে, বীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের সম্ভাবনা।

কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ছয় থেকে সাত লাখ হেক্টর জমিতে দেশি ও তোষা এ দুই জাতের পাট চাষ করা হয়। সব মিলিয়ে দেশে প্রতি বছর ৭০ থেকে ৭৫ লাখ বেল পাট উৎপাদন হয়। বাংলাদেশে এ পরিমাণ পাট উৎপাদনে পাটবীজের প্রয়োজন ছয় থেকে সাত হাজার টন। কিন্তু চাহিদার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ পাটবীজ আমদানি করা হয় ভারত থেকে। এ অবস্থায় সরকার পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য কৃষি বিভাগকে উদ্যোগী হওয়ার জন্য গুরুত্বারোপ করে। এরই অংশ হিসেবে বিজেআরআই যশোরের মণিরামপুরের উপকেন্দ্রটিতে তোষা পাট-৮ নামে পাটের বীজ উৎপাদনে ৩৫টি প্রদর্শনী প্লট শুরু করে। সেখানে হাতে কলমে যশোর ও ঝিনাইদহের ৫০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। চলতি মৌসুমে শুধু যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় ছয় একর জমিতে তোষা পাট-৮ নামে এ পাটবীজ চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক। প্রতি শতক জমিতে তিন থেকে সাড়ে তিন কেজি পাটবীজ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট মণিরামপুর যশোর উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, তোষা পাট-৮ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক জিনোম গবেষণায় উদ্ভাবিত একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। পাটের এ জাতটি পূর্ণবয়স্ক পাটের আশের ফলন অন্যান্য প্রচলিত জাতের চেয়ে ১০-২০ শতাংশ বেশি। পাটের বীজের বৈদেশিক নির্ভরতা কমাতে তাই বিজেআরআই জাতটি কৃষকপর্যায়ে সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরে জেলার মণিরামপুর উপজেলার কয়েকজন কৃষক ছয় একর জমিতে পরীক্ষামূলক এ পাটবীজের চাষ করেন। তিনি বলেন, প্রথম বছরে পরীক্ষামূলক চাষে কৃষক সফল হয়েছেন। আশা করছি, আগামী বছর থেকে আমাদের দেশের কৃষকরা পাটের বীজ নিয়ে সংকটে ছিল তা থেকে অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমলা রঞ্জন দাস, মণিরামপুরে এসব প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শনে আসেন। সেখানে তিনি কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তখন তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে বিজেআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত পাটের নতুন জাত বিজেআরআই তোষাপাট-৮ নামে অবমুক্ত করা হয়। রোগবালাই মুক্ত উচ্চ ফলনশীন উন্নত এ জাতটিকেই বীজ উৎপাদনের জন্য বেছে নেয়া হয়। জাতটিকে কৃষক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে মণিরামপুর পাট গবেষণা উপকেন্দ্রের মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া হয়।

তিনি বলেন, উন্নত জাতের এ তোষাপাট-৮ জাতের পাটবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পাটবীজের আমদানি নির্ভরতা কমার পাশাপাশি দেশে পাট চাষের সেই সোনালী যুগ ফিরে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এদেশের কৃষকরা পাট বীজ উৎপাদনে শতভাগ স্বনির্ভরতা অর্জন করবে বলে তিনি আশা করেন।