সারা বাংলা

যশোরে কমেছে আমনের ফলন

প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর): যশোরে এবার ফলন কমেছে আমন ধানের। এ কারণে হতাশা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক উৎপাদনের কথা বলা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ বছর যশোরে আমন ধানে বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ১৪.৩৭ মণ। যা গত বছরের তুলনায় কম। ২০১৯-২০ মৌসুমে যশোরে রোপা আমন ধানের আবাদ হয় এক লাখ ৩৯ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে উফশী জাতের ছিল এক লাখ ৩১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর, হাইব্রিড পাঁচ হাজার ২১০ ও স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ হয় এক হাজার ৯০৪০ হেক্টরে। উফশী জাতের ধান জেলার আট উপজেলায় মোট উৎপাদন হয়েছে পাঁচ লাখ ৭২ হাজার ৫১০ টন।

এছাড়া, হাইব্রিড ২৯ হাজার ১২০ ও স্থানীয় জাতের চার হাজার ৯১০ টন ধান উৎপাদন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগের তথ্যে জানা যায়। উফশী জাতে প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছে ৪.৩৫, হাইব্রিডে ৫.৫৯ ও স্থানীয় জাতে ২.৫৩ টন। সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে হাইব্রিড চাষে। আর কম ফলন স্থানীয় জাতের ধানে। উফশীর ফলন মাঝমাঝি পর্যায়ে রয়েছে। অথচ উফশী জাতের ধানের আবাদ হয় সবচেয়ে বেশি। কৃষি বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী যশোর অঞ্চলের চাষিরা উল্লিখিত উফশী জাতের ধান দীর্ঘদিন ধরে আবাদ করে আসছে। ইদানীং হাইব্রিড জাতের ধান চাষ শুরু হয়েছে।

তবে দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় জাতের ধান চাষ করে আসছে কৃষক। যশোরের চাষিরা উফশী জাতের ২৫, হাইব্রিড আট ও স্থানীয় ১০ ধরনের ধান চাষ করেন। গত মৌসুমে যশোর অঞ্চলে আমন ধানের উৎপাদন হয়েছিল হেক্টরপ্রতি ২.৮৮ টন। সেখানে এবার ২.৮৫ টন উৎপাদন হয়েছে। আমন ধান কম উৎপাদনের কারণ হিসেবে কৃষি বিভাগ বলছে, মৌসুমের শুরুতে কোনো বৃষ্টি হয়নি।

এ কারণে চাষিরা বাধ্য হন দেরিতে বীজতলা তৈরি করতে। একই সঙ্গে রোপণও করেন অনেক দেরিতে। রোপণের পরও অনেক দিন বৃষ্টি হয়নি। ফলে চাষিকে ধান বাঁচাতে সেচ দিতে হয়েছিল। তবে মৌসুমের শেষদিকে বেশ বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে ভালো ফলন দেখা   গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। এ পরিস্থিতিতে আমনের যে ফলন হয়েছে, তাতেই কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক এমদাদ হোসেন শেখ বলেন, আমন ধানের যে ফলন হয়েছে, তা একেবারে খারাপ নয়। যা হয়েছে, তা সন্তোষজনক।

তবে কৃষকরা বলছেন, এবার আমন চাষে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় ফলন অনেক কম হয়েছে। ফলে কিছুটা হলেও তারা বেকায়দায় রয়েছেন। যে পরিমাণ খরচ হয়েছিল, সে তুলনায় তারা লাভবান হননি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..