কৃষি কৃষ্টি

যশোরে জনপ্রিয় ব্রকোলি

যশোরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ হচ্ছে কপি পরিবারের নতুন শীতকালীন সবজি ব্রকোলি। লাভজনক সবজিটির বাজারদর ও ক্রেতা চাহিদার কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে চাষ হচ্ছে এটি। তিন বছর আগে কৃষি বিভাগের পরামর্শে জেলার কয়েকটি স্থানে কৃষকরা ব্রকোলি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে যশোরে উৎপাদিত ব্রকোলি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
২০১৩ সালে প্রথম যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পলাশী গ্রামের কয়েকজন কৃষক এ সবজি চাষ শুরু করেন। পরে এ সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন ও সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক পরিচালিত ‘সফল’ প্রকল্প নামক একটি সংস্থা। ফুলকপির থেকে তিন-চারগুণ বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্যিকভাবে ব্রকোলি চাষে ঝুঁকে পড়েন অনেক কৃষক।
ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক কৃষক পুষ্টিসমৃদ্ধ এ সবজি চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলেছেন। ফুলকপির মতো সবুজ পাতাসমৃদ্ধ ব্রকোলি ইতালি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বাধিক জনপ্রিয়। এছাড়া চীন, থাইলান্ডসহ কয়েকটি দেশেও রয়েছে ব্রকোলির প্রচুর চাহিদা।
সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ব্রকোলি সম্পর্কে মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের পলাশী গ্রামের চাষি প্রদীপ বিশ্বাস জানান, সর্বপ্রথম আমি এ সবজি চাষ শুরু করি। আমার দেখাদেখি এখানকার অনেক চাষি এখন এ সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছে। চলতি বছরে তিনি প্রায় আড়াই হাজার ব্রকোলি চাষ করেছেন। তার সফলতা দেখে ওই এলাকার চাষি সুকুমার মণ্ডল, রতন বিশ্বাস, তাপস মণ্ডল, মিজানুর রহমান, শ্রী নিবাস বিশ্বাসসহ অনেকেই এখন ব্রকোলিচাষি। এখানকার উৎপাদিত ব্রকোলি এখন জেলার বিভিন্ন
হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। প্রদীপ আরও জানান, স্বাভাবিক কৃষিজমি ও বৈরী আবহাওয়াতে ব্রকোলি সহজে চাষ করা যায়।
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন ও সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক পরিচালিত ‘সফল’ প্রকল্পের পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বাণিজ্যিকভাবে ব্রকোলি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে যশোরে। সবজি জোন হিসেবে পরিচিত এ জেলা। দেশের মোট সবজির চাহিদার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই পূরণ করা হয় এখান থেকে। এ জেলার চাষিরা গতানুগতিকভাবে একমুখী সবজি চাষ করে। ইতোমধ্যে এখানকার ৬৬ কৃষক বাণিজ্যিকভাবে ব্রকোলি চাষ করে সাড়া ফেলেছেন।
চাষিরা জানান, ব্রকোলির বাজারদর বেশ ভালো। ফুলকপির মতো একই ফসল হওয়ার পরও ফুলকপির চেয়ে প্রায় তিনগুণ দামে বিক্রি করা যায়। পাশাপাশি এ সবজি অনেকটা রোগসহিষ্ণু ও এর উৎপাদন খরচ কম।
মনিরামপুরের উপসহকারী কৃষি অফিসার লোপা মণ্ডল বলেন, চাষিরা আগে গতানুগতিক পুরোনো পদ্ধতিতে চাষ করত, ফসল ফলিয়ে লাভবান হতে পারত না। বর্তমান সরকারের আমলে নতুন প্রযুক্তি দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। এমনই একটি নতুন সবজি ব্রকোলি। তিনি আরও বলেন, প্রতি হেক্টর জমি থেকে ৬৫ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ব্রকোলি গাছ উৎপাদিত হতে পারে। প্রতি গাছে একটি করে ব্রকোলি হয়। ব্রকোলির গুণাগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ক্রসিফেরী গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ফুলকপির মতো সবুজ পাতাসমৃদ্ধ এ সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ফোলেট ও আঁশ আছে। চযুঃড়হঁঃৎরবহঃং থাকায় এটি হৃদরোগ, বহুমূত্র ও ক্যানসার প্রতিরোধ করে। ব্রকোলি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। এর ভিটামিন এ ও সি কোষের ক্ষয়রোধ করে। মানবদেহে প্রতিদিন ভিটামিন সি-এর যে চাহিদা রয়েছে, মাত্র ১০০ গ্রাম ব্রকোলিতে সে চাহিদার ১৫০ শতাংশ পূরণ হয়।

 মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর

সর্বশেষ..