সারা বাংলা

যশোরে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রতিনিধি, যশোর: মিথ্যা জখমি সনদ প্রদানের অভিযোগে যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক কল্লোলকুমার সাহা ও ওহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন গত সোমবার এই আদেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, গত বছরের ২৩ মার্চ সকালে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ছাইবাড়িয়া এলাকায় সুবল রায় নামে একজন ফার্নিচার-মিস্ত্রির ওপর পূর্বশত্রুতার জের ধরে একই এলাকার সমীর রায়, হারান রায়, তপন রায়সহ আটজন ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ করে। দুর্বৃত্তরা সুবল রায়কে রড দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পেটে আঘাত করে নাড়িভুঁড়ি বের করে দেয়। ওই সময় ঠেকাতে গেলে সুবলের স্ত্রী পূর্ণিমাকেও রড দিয়ে পিটিয়ে হাতের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাদী অভিযোগ করেন, ডাক্তাররা তাদের কাছে ঘুষ দাবি করে তা না পাওয়ায় তাদের জখমকে গুরুতর উপেক্ষা করে ‘সিম্পল’ বলে সনদ দিয়েছেন। বিবাদীরা এই মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে যশোর জেনারেল হাসাপাতালের ডাক্তারদের ‘ম্যানেজ’ করে উল্টো তাদের দশজনের নামে মিথ্যা জখমি সনদ গ্রহণ করে। তার দাবি, মামলার বাদী ও তার স্বজনদের ক্ষতি করার মানসে ডাক্তাররা বিবাদীদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় সুবল রায় বাদী হয়ে তিন চিকিৎসকসহ ১৩ জনকে আসামি করে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরদিন পিটিশন মামলা করেন।
আদালত বিষয়টি তদন্ত করতে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় পুলিশ গত ৩১ জানুয়ারি ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর সোমবার মামলার ১১ আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিন গ্রহণ করেন। অপর দুই আসামি চিকিৎসক কল্লোলকুমার সাহা ও ওহিদুজ্জামান আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বিচারক আগামী ১২ জুনের মধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলে পুলিশের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

 

সর্বশেষ..