সারা বাংলা

যশোরে হঠাৎ বেড়েছে চালের দাম

প্রতিনিধি, যশোর: হঠাৎ করেই যশোরের বাজারে চালের দাম কেজিতে পাঁচ-সাত টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোক্তাদের দাবি, দেশে পর্যাপ্ত চাল মজুদ আছে। সুতরাং চালের দাম বাড়ার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

যশোরের খুচরা বাজারে এক সপ্তাহ আগেও মিনিকেট চাল মানভেদে বিক্রি হয় ৩৮-৪০ টাকা কেজিদরে। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি চাল পাঁচ-সাত টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কাজললতা চাল আগে ছিল ৩৪-৩৫ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকায়। বাংলামতি চাল আগে ছিল ৪৫-৪৬ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকায়। বিআর-২৮ চাল আগে ছিল ৩২ টাকায়, এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৩৬ টাকা। মোটা চাল গুটি স্বর্ণা আগে ২৬ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকা।

যশোর বড় বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ী জানান, অসাধু ধান-চাল মজুতকারী আড়তদার ও মিলমালিকরা নেপথ্যে থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে দাম ওঠানামা করে। এসব মজুতদারের গুদামে হাজার হাজার বস্তা ধান-চাল মজুত করা আছে। চালের বাজার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার আগেই সরকারের এদিকে নজর দেওয়া দরকার।

বেসরকারি চাকরিজীবী হায়দার আলী গত শুক্রবার বড় বাজারে চাল কিনতে এসে জানান, কৃষক বোরো ধান বিক্রি করে লোকসান গুনেছেন। অথচ মজুতদার, মিলমালিক ও আড়তদাররা ঠিকই অধিক মুনাফা লুটে নিচ্ছেন। সরকারি বাজার তদারকি সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে এদের গুদামে ধান-চাল মজুত থাকতে পারে না।

এদিকে বাজারে হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে যশোরের অ্যারিস্টো ফুড এক্সপোর্টার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আবদুল মোনায়েম রনক জানান, হাটবাজারে ধানের দাম বেড়েছে, চাহিদামতো ধানও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে চালের দাম বেড়েছে। তিনি আশা করছেন, নতুন আমন ধান বাজারে এলে চালের বাজার স্বাভাবিক হবে।

এ বিষয়ে যশোর চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশীল জানান, বাজারে এখন খুব সামান্য পরিমাণ ধান উঠছে, দামও বেশি; এ কারণে চালের দাম বেড়েছে। আমন ধান বাজারে এলে চালের দাম কমে যাবে।

যশোরে পেঁয়াজের কেজি ২৪০ টাকা যশোরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার ভয়ে ব্যাপারীরা বাজারে পেঁয়াজ আনছেন না। আবার আড়তদাররাও বেশি দামের পেয়াঁজ খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বাকিতে বিক্রি করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এ কারণে বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে যে, পরে ৩০০ টাকা দিলেও বাজারে এক কেজি পেঁয়াজ পাওয়া যাবে না।

যশোর বড় বাজার হাটখোলা রোডের আড়তদার নিউ আমিন অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী আবদুল হক জানান, তিনি গতকাল শনিবার সকালে দেশি পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ২০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করেন। পরে বেলা ১১টায় বিভিন্ন হাটবাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ২২০ টাকা দরে বিক্রি করেন।

আড়তদার নোয়াখালী এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আলমগীর কবির জানান, তিনি দেশি পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি করেছেন ২১০ টাকায়। আড়তে কোনো পেঁয়াজ নেই। এত বেশি দামে খুচরা বিক্রেতারা পেঁয়াজ কিনতে চাচ্ছেন না।

কালীবাড়ি সংলগ্ন পাইকারি বাজার জমজম ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. সাদ্দাম  জানান, দিন দিন পেয়াঁজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানার ভয়ে ব্যাপারীরা বাজারে পেঁয়াজ আনছেন না। এ বাজারের নিতাই গৌর ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী বাগান চন্দ্র সাহা জানান, বালিয়াকান্দি, শৈলকুপা ও রানীগাতি বাজারে গত বৃহস্পতিবার সকালে সাত হাজার টাকা মণ (১৭৫ টাকা কেজি) দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছিল। ওইসব বাজার থেকে ব্যাপারীরা পেঁয়াজ কিনে যশোরের আড়তে বিক্রি করেন। বর্তমানে সেখানেও পেঁয়াজ আর উঠছে না।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..