প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক উদ্বোধন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশের সুফল পৌঁছে দিতে যশোরে যাত্রা শুরু ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি’ পার্কের। গতকাল ঢাকায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ টেকনোলজি পার্কের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তৃণমূল পর্যায়ে চলে যাওয়া শুরু করেছি। শুধু রাজধানীভিত্তিক নয়, আমাদের লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায়ে যাওয়া। এখানে বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে; পাশাপাশি আমাদের দেশটাকে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন করে গড়ে তোলার একটা ধাপ অতিক্রম করতে পারলাম।’

এ সময় দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে হাইটেক পার্ক করার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি তো মনে করি এটা আমাদের রফতানিতে সব থেকে বড় অবদান রাখতে পারবে। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকাকে সুনির্দিষ্ট করেই তৈরি করতে চাচ্ছি এবং সেই কাজটি আমরা করে যাচ্ছি।’

সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে সফটওয়্যার তৈরি, কলসেন্টার সেবা, ফ্রিল্যান্সিং, গবেষণা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজ হবে। এতে সেখানে খুলনা বিভাগের দশ জেলার পাঁচ হাজার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বলে আশা করছে সরকার।

এর আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ জেলায় বিশ্বমানের একটি তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর চার বছরের মাথায় ২০১৪ সালের এপ্রিলে বেজপাড়া শংকরপুর এলাকায় দুই লাখ ৩২ হাজার বর্গফুট জমির ওপর ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি’ পার্কের নির্মাণকাজ শুরু হয়।

এ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ১৫ তলার মূল ভবনের পাশাপাশি তিন তারকা মানের একটি ১২তলা ডরমেটরি ভবন রয়েছে। জাপানি উদ্যোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী ডরমেটরি ভবনের ১১তলায় তৈরি করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের একটি জিম। সেই সঙ্গে রয়েছে আধুনিক কনভেনশন সেন্টার ও আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে করা হয়েছে ৩৩ কেভিএ পাওয়ার সাব-স্টেশন। ইতোমধ্যে জাপানের দুটি কোম্পানিসহ ৫৫টি কোম্পানিকে পার্কে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপ কোম্পানি হিসেবে তরুণদের বিনা মূল্যে একটি ফ্লোর দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দেশের প্রথম সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। ‘এনগ্রিন সরিষাবাড়ী সোলার প্ল্যান্ট লিমিটেড’ নামের এ কেন্দ্রে জমি দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। আর বিনিয়োগ করেছে জার্মানির আইএফই এরিকসেন এজি, বাংলাদেশের কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম লিমিটেড ও জুপিটার এনার্জি লিমিটেড। প্রায় আট একর জমিতে সাড়ে ১১ হাজার সোলার প্যানেল ব্যবহার করে এ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জে ৪০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি ফটোভোল্টাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চট্টগ্রাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোট ৩২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকার সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। এ কারণে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের উন্নয়ন করছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে সরিষাবাড়ীর সিমলা বাজারে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে এ রকম আরও পাঁচটি কেন্দ্র থেকে ৩৩২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে চলে আসবে।’

একই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফরিদপুর সদর উপজেলা, মাদারীপুরের রাজৈর, নওগাঁ সদর, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও সদর, মাগুরার শালিখা, মেহেরপুর সদর, নেত্রকোনার মদন এবং নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ সচিব আহমদ কায়কাউস সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে জানান, ‘২০০৯ সালের শুরুতে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তখন ছিল চার হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট; গ্রাহক ছিল এক কোটি আট লাখ। সেই উৎপাদন ক্ষমতা এখন বেড়ে ১৬ হাজার ১৪৯ মেগাওয়াট হয়েছে। আর গ্রাহকসংখ্যা দুই কোটি ৭০ লাখে পৌঁছেছে।’

এ সময় ‘২০০১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত আট বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি না পাওয়া’ বিষয়ে তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশ পিছিয়ে গিয়েছিল। বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিএনপি দিয়েছিল ১৬০০ মেগাওয়াট। আর আমরা দিচ্ছি ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ২০০৯ সালের শুরুতে দেশে ২৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল। এখন ১১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। উন্নয়নে বিদ্যুৎ উৎপাদন একান্ত অপরিহার্য। আমাদের প্রচেষ্টা ছিল; কত দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। এর অংশ হিসেবে রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।’

উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতার পর প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর কর্মকর্তা ও স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গেও ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত  আবদুল্লাহ এইচএম আল-মুতাইরি এবং বাংলাদেশে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আদেল মোহাম্মদ এএইচ হায়াৎ উপস্থিত ছিলেন।