সম্পাদকীয়

যাত্রাপথের আসন বিন্যাস পরিপালন নিশ্চিত হোক

কভিড সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরোপিত ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শিথিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে সরকার বলেছে, ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য চলমান বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে। সরকার বলেছে, এ সময়ে অর্থনৈতিক সব কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরপর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট রাত পর্যন্ত নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও ওই সময়ে জনসাধারণকে মাস্ক পরা এবং কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এ সময় জনসাধারণের যাতায়াতে বাধা থাকবে না এবং ঈদ সামনে রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। কভিডকালের ক্ষতি কমিয়ে আনতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এমন ব্যবস্থা নেয়া গেলে তার সুফল পাবে দেশের মানুষ।

জনপ্রশাসনের জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২৩ জুলাই থেকে নতুন করে যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে, তাতে ২৩টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলোÑসরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে; সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন, অভ্যন্তরীণ বিমান ও সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে; শপিংমল মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে; সব পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে; সব শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে, জনসমাগম হয় এমন সামাজিক অনুষ্ঠান, যেমন বিয়ের অনুষ্ঠান-জš§দিন-বনভোজন, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে প্রভৃতি।

অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি, বিধিনিষেধ পরিপালনে কঠোর না হলে ঢিলেঢালাভাবেই তা পরিপালিত হবে। এমন হলে বিধিনিষেধ কভিড সংক্রমণ কমাতে কোনোই  ভূমিকা রাখবে না। কিছুটা জনদুর্ভোগ হলেও রোগ প্রতিরোধে বিধিনিষেধের কোনো বিকল্প নেই। সড়ক ও জলপথের গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের বিধি বহাল রয়েছে। এসব গণপরিবহন কর্মীদের অসহযোগিতায় তা যথাযথ পালন করা যাচ্ছে না। বিধি অনুযায়ী আসন খালি না থাকলেও গণপরিবহন কর্মীরা বাস-লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শর্তাবলি পালনের নামে নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হলে এটি পালনে স্বতঃস্ফূর্ততা থাকবে না। বরং জনমনে অসন্তোষ দেখা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে ‘ক্ষুধার্ত মানুষ স্বাভাবিকভাবেই রাগান্বিত’।

বিধিনিষেধ পুরোপুরি পরিপালিত হলে ১৫ দিনের মধ্যেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার কথা। কিন্তু শিথিল বিধিনিষেধের কারণে তা সুফল বয়ে আনতে পারছে না। ফলে পুনঃপুন বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়াতে হয়। সাধারণ মানুষ যাতে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়েই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিধিনিষেধে যাদের জীবিকায় প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে, তাদের রক্ষায় সহায়তা কর্মসূচি চালু করতে হবে। দিন আনে দিন খায়, এমন পরিবহন শ্রমিকদের দু’মুঠো অন্নের সংস্থান করা গেলে কঠোর তারা বিধিনিষেধ পালনে উৎসাহিতই হবে। ঈদুল আজহায় সব গণপরিবহনে যথারীতি আসন বিন্যাস পরিপালনে যাত্রীসাধারণ ও মালিক-শ্রমিক এগিয়ে আসবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..