দিনের খবর শেষ পাতা

যাত্রীদের চাপে ফেরি চলাচল শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করার পরও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে গতকাল দুপুর থেকে সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপে দুপুর ১টার পর থেকে ছয়টি ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার শুরু হয়।

ফেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হলেও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি ও বাস্তবতা বিবেচনায় দুপুরে সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান লকডাউনের শুরু থেকে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করা হচ্ছিল। এরপর বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল সকাল ৬টা থেকে পুরোপুরি ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে ঈদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজারো যাত্রী সকাল থেকে ঘাট এলাকায় ভিড় করেন। এছাড়া প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ ছোট গাড়িরও চাপ পড়ে পাটুরিয়ায়। পরে যাত্রীদের ভোগান্তি বিবেচনা করে ও তাদের রোষানলে বাধ্য হয়ে ফেরি চলাচল শুরু হয়।

গতকাল সরেজমিন পাটুরিয়া ঘাটে দেখা গেছে, সকাল ৯টার দিকে পাটুরিয়া ২ নম্বর ঘাটে একটি লাশবাহী, তিনটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়িসহ অসংখ্য যাত্রীকে নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। এ সময় ওইসব অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য মাধবীলতা নামের একটি ছোট ফেরি পন্টুনের কাছে গেলে অসংখ্য যাত্রী পন্টুনে ভিড় করেন। পরে বাধ্য হয়ে ফেরিটি আর পন্টুনে ভেড়েনি। এ সময় ৩ নম্বর ঘাটে শাহ আলী নামের একটি বড় ফেরি পন্টুনে আনা হয়। এ সময় ওইসব যাত্রী এই ফেরিতে উঠে পড়েন। এরপর মাধবীলতা ফেরিটি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ও কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপার করা হয়।

দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা শাহ আলী ফেরিতে উঠে যাত্রীরা নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা যাত্রীদের ফেরি থেকে নামার অনুরোধ করলেও তারা শোনেনি। একপর্যায়ে ফেরি চালু না করায় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে ফেরিটি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হয়। এরপর থেকে ছয়টি ফেরি দিয়ে সীমিতভাবে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার শুরু হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, এ নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ। নারী ও শিশু যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়। ব্যবহার উপযোগী শৌচাগার না থাকা এবং খাবার হোটেল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে। গতকাল সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পাটুরিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় ভিড় করেন। বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জিল্লুর রহমান বেলা ৩টার দিকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে ঘাটে যাত্রীদের ও যানবাহনের চাপ কিছুটা কমেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী সকাল থেকে ফেরি বন্ধ রাখা হয়। তবে দুপুর একটা থেকে জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য সীমিতভাবে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..