প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

যাত্রী সংকটে বন্ধ হলো চট্টগ্রামে ওয়াটার বাস সার্ভিস

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: কভিড-১৯-এর প্রভাব ও যাত্রী সংকটের কারণে চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর রুটে ওয়াটার বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। ক্রমাগত লোকসান হওয়ায় এরই মধ্যে নিজেদের বহরে থাকা দুটো ওয়াটার বাস বিক্রিও করা হয়েছে। অথচ ২০১৯ সালের শেষদিকে চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের বিমানযাত্রীদের ধুলোবালি ও যানজট থেকে বাঁচিয়ে নিরাপদ ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সদরঘাট থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে কর্ণফুলীতে চালু হয়েছিল ওয়াটার বাস সার্ভিস।

দেশের প্রধান বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রাম। এ শহরের বেশিরভাগ বাণিজ্যিক কর্মচাঞ্চল্য চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে। এ বন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি পণ্য পরিবহনে রয়েছে ছয় হাজারের বেশি ট্রাক ও ট্রেইলার। অন্যদিকে গত কয়েক বছর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ওয়াসার পাইপলাইনের জন্য রাস্তা সংস্কার চলছে। আর এ শহরের প্রধান সড়কের বিকল্প একাধিক সড়ক না থাকায় বন্দরকেন্দ্রিক পণ্যবাহী যান চলাচল ও প্রকল্প বাস্তবায়নে যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে নগর। এতে অনেক সময় দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয়। এ কারণে অনেকে সঠিক সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারেন না। তাই বিমানবন্দরগামী যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার অফিসগামী মানুষদের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সহযোগিতায় ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে কর্ণফুলীতে ওয়াটার বাস সেবা চালু করা হয়। এজন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে সদরঘাট ও পতেঙ্গায় দুটো টার্মিনালসহ অবকাঠামো নির্মাণ করে দেয়। যদিও প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম ড্রাইডককে দেয় চবক। আর ড্রাইডক ওয়াটার বাস পরিচালনার জন্য চুক্তি করে এসএস ট্রেডিং নামের একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে।

চুক্তি অনুসারে এ ওয়াটার বাস সার্ভিস পরিচালনা শুরু করে এসএস ট্রেডিং। প্রতিষ্ঠানটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়াটার বাসে সদরঘাট থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে সময় লাগত মাত্র ৩০ মিনিট। ওয়াটার বাসগুলো ফ্লাইটের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে চলত। প্রতিটি ওয়াটার বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে ২৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটে যেত। সঙ্গে লাগেজ রাখা, ওয়াইফাই সুবিধা, পতেঙ্গা টার্মিনাল থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত শাটল বাস প্রভৃতি রয়েছে। এ রুটে প্রাথমিকভাবে দুটি ওয়াটার বাস দিয়ে সদরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সার্ভিস চালু ছিল। কিন্তু মহামারির কারণে স্থবির হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম। টানা এক বছরের বেশি যাত্রী সংকটের কারণে লোকসান হচ্ছিল। সংকট কাটাতে দুটো ওয়াটার বাস বিক্রি করা হয়।

ওয়াটার বাস পরিচালনায় নিয়োজিত এসএস ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবাব হোসেন বলেন, করোনার সংক্রমণের প্রভাবে যাত্রী সংকটে পড়ে দীর্ঘসময় ধরে লোকসানে ছিলাম। আর লোকসান কমাতে বহরের থাকা দুটো ওয়াটার বাস ইয়াংওয়ান করপোরেশনের কাছে বিক্রি করে দিই, যদিও আমাদের আরও দুটো ওয়াটার বাস আছে। তবে কার্যত ওয়াটার বাস সার্ভিস বন্ধ। এখনও আমরা লোকসানে আছি। বিষয়টি আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। তারা বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

তিনি আরও বলেন, বিমানযাত্রীদের ৩০ মিনিটের মধ্যে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এত ভালো ওয়াটার বাস ও সার্ভিস ছিল। কিন্তু জনপ্রিয় হয়ে ওঠার আগেই করোনা সংক্রমণ শুরু হলো, তখন সবকিছু তো স্থবির ছিল। লোকসানের কারণে বন্ধ করে দিতে হয় ব্যবসা।

উল্লেখ্য, পতেঙ্গা ওয়াটার বাস টার্মিনাল দিয়ে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের উদ্যোগে পতেঙ্গা সেন্ট মার্টিন রুটে বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছিল। একইভাবে সেটিও বন্ধ।