সম্পাদকীয়

যানজট নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন

রাজধানী ঢাকা আমাদের প্রধান শহর। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে শহরে সাধারণ মানুষের আগমন অন্য শহরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। সংগত কারণে যানবাহন-যানজট বেশি। বৈশ্বিক সংস্থার তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি যানজটের শহরের তালিকায়ও ঢাকার নাম প্রথম দিকে থাকে। ঢাকার যানজট সমস্যা কতটা গুরুতর ও ক্ষতিকর তা উঠে এসেছে প্রকৌশল, স্থাপনা ও আবাসন-সংক্রান্ত একটি মাসিক পত্রিকার সাম্প্রতিক গবেষণায়।

গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, যানজটের কারণে রাজধানীতে একটি যানবাহন ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটারের বেশি চলতে পারে না। ১২ বছর আগেও এই গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। যানজটের কারণে শুধু ঢাকায় দৈনিক ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যার আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকায় যাত্রীদের মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এটি কাজ করছে অন্যান্য রোগের উৎস হিসেবেও।

রাজধানীর প্রধান সমস্যা যানজট আর সেটি কয়েক বছর ধরেই। এতে প্রমাণ হয়, যানজট দূরীকরণে নেওয়া ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। ব্যক্তিগত গাড়ি কমানো গেলে যানজট কমবে। যানজট কমাতে সরকারের নেওয়া সব পরিকল্পনায়ই ব্যক্তিগত গাড়ি সীমিত রাখতে বলা হয়েছিল। উন্নত বিশ্বে নগরবাসীকে কেবল গণপরিবহনেই চলতে হয়। পাশাপাশি গণপরিবহন বাড়াতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বলে নগরবাসীর দুর্ভোগও কমেনি।

উন্নত বিশ্বে ব্যক্তিগত গাড়ির পার্কিং স্পট থাকে শহরের বাইরে, আমাদের স্পটগুলো শহরের অভ্যন্তরে। যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্ক, ফুটপাতের অবৈধ দখল, হকারদের সড়ক দখল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়কের প্রশস্ততা কমে যায়। জরিমানার অঙ্ক বাড়ালে অবাধে গাড়ি পার্কিং কমবে। পার্কিং স্পট বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান স্পট ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের কয়েকটি ফ্লাইওভারে যানজট কমায়নি, বরং বাড়িয়েছে। এর ফলে যানজটের স্থান বদল হয়েছে মাত্র। ফ্লাইওভারের নিচে যানজট নেই; কিন্তু এটি যেখানে গিয়ে সমতলে নেমেছে, সেখানে যানজট বেড়েছে। তাই ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে হবে পরিকল্পিতভাবে।

যানজটের সব ক্ষতি দৃশ্যমান নয়। এর ফলে মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যানজটে বসে থাকলে মানসিক চাপ তৈরি হয়। নানান রকম দুশ্চিন্তা ভর করে। এমন মানসিক চাপে নাগরিকদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে পরিবারসহ বিভিন্ন সামাজিক সম্পর্কে।

নগরের সরকারি সংস্থাগুলোর পরস্পরের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় একেক সময় একেক সংস্থা সড়কের সংস্কার করে।  ফলে যানজট হয়। সমন্বিত ব্যবস্থা নিলে দুঃসহ যানজট দূর করা সম্ভব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..