বিশ্ব সংবাদ

যুক্তরাজ্যে কয়েকগুণ বেড়েছে নির্মাণসামগ্রীর কাঁচামালের দাম

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের বাড়ি নির্মাণসামগ্রী, যেমন ইট, সিমেন্ট, রডসহ যাবতীয় কাঁচামালের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। এ অবস্থায় দেশটির নির্মাণশিল্প এক ধরনের হুমকিতে পড়তে যাচ্ছে। কভিড-১৯ মহামারির কারণে একদিকে যেমন শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে আমদানি তথা উৎপাদন স্বল্পতায় যুক্তাজ্যের বাড়ির মালিকরা উঁচু উঁচু দালান করতে হিমশিম খাচ্ছেন। দেশটিতে বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালসের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এখন হাউজিং মার্কেটে চাঙাভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। খবর: গার্ডিয়ান।

সর্বশেষ শুক্রবার দেশটির নির্মাণ খাতের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখানো হয়েছে, এপ্রিল মাস ছিল অন্য মাসগুলোর মধ্যে শক্তিশালী হাউজিং ব্যবসা। প্রতিবেদনে দেখানো হয়, নির্মাণ খাত দ্রুত বাড়ছে। বিশেষত স্টিল ও কাঠের দাম ছিল সবচেয়ে বেশি।

নির্মাণশিল্পের আমদানি পণ্যের কেবল এক-চতুর্থাংশ পণ্য ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু এসব পণ্যের সহযোগী পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে।

দেশটির কনস্ট্রাকশন প্রডাক্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ নবেল ফ্রান্সিস বলেছেন, গত ছয় মাসে কাঠ বা কাঠজাতীয় পণ্যের দাম বেড়েছে ৮০ শতাংশের বেশি, যেখানে কপার ও স্টিলের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ। 

তিনি বলেন, বিল্ডিংয়ের রং ও বার্নিশের খরচ বেড়েছে ৩৩ গুণ, পলিমারের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশ। তিনি বলেন, ডেভেলপারদের কিন্তু প্রকল্প ব্যয় একই রাখতে হয়েছে, যদিও শ্রমিক কিংবা পণ্যের খরচ বাড়াতে হয়েছে।

ন্যাশনাল ফেডারেশন অব রোফিং কনস্ট্রাকশনস (এসএফআরসি) প্রধান নির্বাহী জেমস টালামেন বলেন, তিন মাস ধরে নির্মাণসামগ্রীর সরবরাহ সমস্যাটি খুবই তীব্র, যেখানে কাঠজাতীয় পণ্য, স্টিলের বিমস ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যয় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, কভিডের লকডাউনের কারণে বেশিরভাগ কারখানায় বিল্ডিং উপকরণ উৎপাদন বন্ধ থাকায় সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। লকডাউন-পরবর্তী অর্থনীতি সচল করায় বৈশ্বিক চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে দেশের মধ্যেও পণ্যের দাম বাড়তে থাকে।

দ্রুত বাড়ছে ব্রিটিশ অর্থনীতি: এদিকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কভিড-১৯ মহামারিজনিত বিধিনিষেধের মধ্যে ছিল যুক্তরাজ্য। এরপর মার্চ থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করতে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার। এপ্রিলের শুরুর দিকে খুলে দেয়া হয় খুচরা পণ্যের দোকান ও রেস্তোরাঁগুলো। এরই মধ্যে কয়েক দশকের মাঝে শক্তিশালী গৃহস্থালি ব্যয়ের দেখা পেয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছর অর্থনীতি দৃঢ়ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানিয়েছে, বিধিনিষেধ প্রত্যাহার হওয়ায় ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি হবে ৭০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। খবর: বিবিসি।

চলতি বছর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি সাত দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাত শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ১৯৪৯ সালে সরকারি রেকর্ড শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। এর আগের বছর অর্থনীতিটি মহামারিজনিত বিধিনিষেধের কারণে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ সংকোচনের মুখোমুখি হয়েছিল, যা দেশটির ৩০০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্র– বেইলি এ পুনরুদ্ধারকে শক্তিশালী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি এটাকে বিশাল বৃদ্ধির চেয়ে বরং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির উত্থান অবশ্যই সুসংবাদ। আর এ কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ২০১৯ সালের স্তরে ফিরে আসবে। আমরা এ বছর ধারাবাহিক পুনরুদ্ধারও দেখতে যাচ্ছি। তবে আমরা যদি একটু পেছনে ফিরে তাকাই তাহলে দেখতে পাব, অর্থনীতির কোনো প্রবৃদ্ধি ছাড়াই দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে।

ব্যাংকের নীতিনির্ধারকরা সুদহারকে রেকর্ড সর্বনিম্ন শূন্য দশমিক এক শতাংশ বজায় রাখার ঘোষণার পর তিনি এ বক্তব্য দেন। যুক্তরাজ্যে টিকাদান কার্যক্রম ভোক্তাদের আস্থা বাড়িয়ে তুলবে বলেও আশা করা হচ্ছে। খুচরা পণ্যের দোকান ও রেস্তোরাঁগুলো খুলে যাওয়ায় শক্তিশালী গৃহস্থালি ব্যয় ফিরে এসেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..