যুক্তরাজ্যে পাঁচ হাজার ইইউ’র লরিচালকের জরুরি ভিসা

খাদ্য ও পরিবহন সংকট দূরীকরণ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ব্রেক্সিট ইস্যুতে লরিচালকের অভাবে খাদ্যসহ নিত্যপণের সংকটে পড়েছে যুক্তরাজ্য। ইউরোপীয় ভারী যানবাহন চালকদের (লরিচালক) জরুরি ভিসার দাবি করে আসছিল ব্যবসায়ী ও সুপারশপ কর্তৃপক্ষ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ডাউনিং স্ট্রিট জরুরি ভিত্তিতে পাঁচ হাজার লরিচালক এবং সাড়ে পাঁচ হাজার পোলট্রি খাতের শ্রমিকের ভিসা অনুমোদন করেছে। এসব শ্রমিক আসন্ন ক্রিসমাস পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে কাজ করতে পারবেন। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি ৯০ হাজার লরিচালক সংকট এত অল্প জনবল দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। এজন্য পরিবহন সমস্যা দূর করতে সরকারকে আরও অনেক কিছু করতে হবে। খবর: গার্ডিয়ান, গভডট ইউকে।

যুক্তরাজ্যের শীর্ষ বাণিজ্য সংস্থা দ্য রোড হাউলেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান রড ম্যাকেঞ্জি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হাজার হাজার লরিচালকের সংকট সরকারের ক্ষুদ্র জরুরি কর্মসূচি দ্বারা সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এ কর্মসূচি দিয়ে ইউরোপীয় শ্রমিকদের যুক্তরাজ্যে আকৃষ্ট করাও অসম্ভব।

প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট  কার্যকরের পর ইইউ’র শ্রমিকদের জন্য যুক্তরাজ্য ভিসায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ফলে ইইউ’র শ্রমিকরা এখন আগের মতো যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারেন না। এ কারণে যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার, ইইউ’র শ্রমিকদের জরুরি ভিসা দেয়াসহ ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যেখানে আগামী ১২ সপ্তাহে তিন হাজার দক্ষ লরিচালক তৈরি করবে এবং অতিরিক্ত এক হাজার দক্ষ জনবল তৈরি করবে।

সরকারের স্বল্পমেয়াদি পাঁচ হাজার লরিচালক এবং সাড়ে পাঁচ হাজার পোলট্রি খাতের শ্রমিকের ভিসা অক্টোবর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের এ ঘোষণার পর ইউরোপিয়ান রোড হোলার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান মার্কো ডিজিইয়া বলেন, ইউরোপজুড়ে দুই লাখ ট্রাক কোম্পানি রয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপেও লরি বা ট্রাকচালকের সংকট রয়েছে। যুক্তরাজ্যে সরকারের স্বল্পমেয়াদি এ  ঘোষণায় শ্রমিকরা ব্রিটেন যেতে উদ্বুদ্ধ না হতে পারে।

আর ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের প্রধান অ্যান্ড্রো অপি বলেন, বর্তমান ঘাটতি দূর করার জন্য পাঁচ হাজার শ্রমিকের অনুমিত তেমন সাফল্য আনবে না।

এদিকে গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, লরিচালক ও দক্ষ শ্রমিকের অভাবে দেশব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। যুক্তরাজ্যজুড়ে গাড়ির জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। কর্মী সংকটে বড় বড় গ্যাস সরবরাহ কোম্পানি স্টেশন বন্ধ করে দিচ্ছে। শীতকালীন মৌসুমে গৃহস্থালির রান্নার জ্বালানি গ্যাসের দাম আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের পেট্রোল কোম্পানিগুলোর তিনটি বড় অপারেটর বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী কিছু ফোরকোর্টে (স্টেশন) জ্বালানি সংকটের বিষয়ে সতর্ক করে বলেছে, দেশব্যাপী লরিচালকদের তীব্র অভাবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের জ্বালানি পরিশোধন ও সরবরাহকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিপি বলেছে, তাদের অন্তত ১০০টি ফোরকোর্টে (স্টেশন) কমপক্ষে এক গ্রেড জ্বালানি ঘাটতি রয়েছে। সরবরাহের সমস্যার কারণে বেশ কয়েকটি স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়েছিল। আর অন্যতম কোম্পানি ইসো বলেছিল, সরবরাহ সমস্যার কারণে টেসকো এক্সপ্রেস স্টোরের পাশাপাশি কয়েকটি স্টেশন প্রভাবিত হয়েছে। এমনকি সুপার মার্কেট সাইটের নিজস্ব ব্র্যান্ডগুলোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, সরবরাহ সমস্যায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি শীত মৌসুমে যুক্তরাজ্যে সংকট সত্তরের দশকের জ্বালানি সংকটকেও ছাড়িয়ে যাবে। ১৯৭৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রথম জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছিল।

যদিও বরিস জনসনের কার্যালয় থেকে বলা হচ্ছে, ‘কোনো জ্বালানি সংকট বা ঘাটতি নেই।’ ব্রেক্সিট-পরবর্তী ও করোনা মহামারির কারণে দেশজুড়ে দক্ষ শ্রমিক ও সরবরাহ বিপর্যয় নিয়ে সরকার চাপে রয়েছে।

সর্বশেষ..