বিশ্ব সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রকে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর আহ্বান উত্তর কোরিয়ার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার সর্বশেষ দফা আলোচনা বাতিল হওয়ার পর ওয়াশিংটনকে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর পরামর্শ দিয়েছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ আলোচক কিম মিয়ং গিল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো ধ্যানধারণার কোনো পরিবর্তন হয়নি। দেশটিকে অবশ্যই এমন দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। গত শনিবার সুইডেনে উত্তর কোরীয় দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। খবর: রয়টার্স।
এর আগে শনিবার সুইডেনের স্টকহোমে বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিরা। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সাক্ষাতের পর এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা। বৈঠককে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পরমাণু অস্ত্রমুক্ত হতে কিছু একটা করতে চায় পিয়ংইয়ং। তবে কিছুক্ষণ পর উত্তর কোরীয় কর্মকর্তারা জানান, আর আলোচনা হবে না। দেশটির পরমাণুবিষয়ক সর্বোচ্চ দূত কিম মিয়ং গিল বলেন, সংলাপে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়েছে।
সম্প্রতি সাবমেরিন থেকে সফলভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির কর্মকর্তারা জানান, সমুদ্রসীমাকে বাইরের হুমকি থেকে সুরক্ষায় ও আত্মপ্রতিরক্ষার সক্ষমতা জানান দিতে এ পরীক্ষা চালিয়েছে তারা। ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণুবিষয়ক আলোচনার ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়ার পরই ওই পরীক্ষা চালায় তারা।
গত ফেব্রুয়ারিতে হ্যানয়ে ট্রাম্প-কিম বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে সব পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের কথা বললে পিয়ংইয়ং মার্কিন নেতৃত্বাধীন সব আন্তর্জাতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি করে। দুই পক্ষ পারস্পরিক সম্মতিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় ভেস্তে যায় আলোচনা। হ্যানয়ের বৈঠক ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে ওয়ার্কিং লেভেলে আলোচনা আবার শুরুর বিষয়ে সম্মত হন উত্তরকোরীয় নেতা কিম জং উন। তবে এখনও সেই আলোচনা শুরু হয়নি।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে বরখাস্ত করার পর গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া ফের আলোচনা শুরুতে তৎপর হয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কট্টরপন্থি বোল্টনকে সরিয়ে দিয়ে ট্রাম্প তুলনামূলক উদারপন্থি বিগেনকে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়ায় পিয়ংইয়ং বৈঠকে সম্মতি দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কোনো ‘কমন গ্রাউন্ড’ খুঁজে পায় কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

সর্বশেষ..