বিশ্ব সংবাদ বিশ্বসাথে

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন শহরে কারফিউ, ব্যাপক সংঘাত

পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যু

শেয়ার বিজ ডেস্ক: পুলিশি হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েড নামের নিরস্ত্র এক কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর জেরে চলমান বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। দেশটির অন্তত ৩০টি বড় শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অস্থিরতার মুখে ২৫টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। কয়েকটি রাজ্যে কারফিউ জারি করেও বিক্ষোভকারীদের দমন করা যায়নি। এমন বাস্তবতায় ৯টি রাজ্য  সেনাবাহিনীর শরণাপন্ন হয়েছে। খবর: রয়টার্স।

ফ্লয়েডের মৃত্যুতে ফুসে ওঠা বিক্ষোভকারীরা শুক্রবারের পর শনিবারও রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ দেখায়। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে পূর্ব উপকূলের মিয়ামি, উত্তরের শিকাগোসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসা বিক্ষোভকারীরা ফ্লয়েডের শেষ বলা কথা ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না’ প্রতিধ্বনি তুলে সেøাগান দেয়। প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ করে, তারপর দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি রাজ্যের ২৫টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। শহরগুলোর মধ্যে বেভারলি হিলস, লস অ্যাঞ্জেলেস, ডেনভার, মিয়ামি, আটলান্টা, শিকাগো, মিনিয়াপোলিস, ফিলাডেলফিয়া, কলম্বাস, সল্ট লেক সিটি, সিয়াটল উল্লেখযোগ্য।

ক্রমে ছড়িয়ে পড়তে থাকা বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে সেনা ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত আমেরিকান ন্যাশনাল গার্ডের শরণাপন্ন হয়েছে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ আরও আটটি অঙ্গরাজ্য। মিনিসোটা, জর্জিয়া, ওহাইও, কলোরাডো, উইসকনসিন, কেন্টাকি, উটাহ ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের কোথাও কোথাও এরই মধ্যে তারা মাঠে নেমেছে, আবার  কোথাও  কোথাও তারা মোতায়েন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

গত সপ্তাহের সোমবার ফ্লয়েডের গাড়িতে জাল নোট থাকার খবর পেয়ে তাকে আটক করতে যায় পুলিশ। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, সেখানে পুলিশের এক কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড়ের ওপর হাঁটু দিয়ে তাকে মাটিতে চেপে ধরেছেন। সে সময় ফ্লয়েডকে ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না’ বলতে শোনা যায়। অ্যাম্বুলেন্সে করে পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

৪৬ বছর বয়সী এ কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মিনিসোটার রাজ্যের প্রধান শহর মিনিয়াপোলিসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তাল হয়ে ওঠা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি ভবন ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগ তাদের চার কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে। এদের মধ্যে ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু তুলে দেওয়া ৪৪ বছর বয়সী ডেরেক শভিনও আছে। শুক্রবার গ্রেপ্তার শভিনের বিরুদ্ধে ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..