প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দীপনা পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় ট্রাম্পের অভিবাসন প্রশ্নে সুর নরম

 

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া প্রথম বক্তৃতায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দীপনা পুনরায় জাগিয়ে  তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি অভিবাসন প্রশ্নে নিজের কট্টরপন্থি অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসি।

‘অনিবন্ধিত অভিবাসী’দের মধ্যে যাদের অপরাধকর্মের রেকর্ড নেই এবং যারা কর্মী হিসেবে দক্ষ, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার রক্ষার ইঙ্গিত দেন। তবে অভিবাসন নীতি বদলের প্রশ্নে আগেই অবস্থানেই রয়েছেন এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। এদিন মেধাভিত্তিক নতুন অভিবাসন নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বক্তব্যের সময় ট্রাম্পের সুর ছিল আগের চেয়ে অনেকটা নমনীয়। আর সেই নমনীয় সুরেই ‘আমেরিকান মহত্ত্বের নতুন অধ্যায়’ খোলার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করি, বিশ্বকে নয়। তাই যুক্তরাষ্ট্র নিয়েই আমাকে ভাবতে হয়। তাই বর্তমানে অভিবাসন নীতি পাল্টে মেধাভিত্তিক অভিবাসন নীতি শুরু করতে চান ট্রাম্প। ভাষণে তিনি বলেন, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের আগমন ঠেকিয়ে দক্ষ অভিবাসী নিলে যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন হবে।

বক্তব্যের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি ইহুদি সমাধিক্ষেত্রে হামলা এবং কানসাসে ঘৃণাজনিত অপরাধের শিকার হয়ে এক ভারতীয় প্রকৌশলীর মৃত্যুর ঘটনার নিন্দা জানান রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত এ প্রেসিডেন্ট।

মঙ্গলবার রাতে ঘণ্টাব্যাপী ওই বক্তব্যে ট্রাম্প তার দেশের সাম্প্রতিক ঘৃণাজনিত হামলার ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশের বাসিন্দা, যে দেশ সব ধরনের জঘন্য ঘৃণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।’

সবার আগে নিজ দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মার্কিনীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অভিবাসন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘নাইন-ইলেভেনের পর  থেকেই এদেশে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা আমরা  দেখেছি। আমরা দেখেছি, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়ামসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কীভাবে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। আর এ কারণেই আমরা মার্কিনিদের নিরাপত্তার স্বার্থে এদেশে অভিবাসীদের অবাধ প্রবেশের অনুমতি দিতে পারি না।’

যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নের স্বার্থেই রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেট দলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, মার্কিনিদের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা থেকে দেশকে বাঁচাতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রণীত স্বাস্থ্যনীতি ওবামাকেয়ার সম্পর্কেও ট্রাম্প বলেন, ওই নীতি বাতিল করে আরও উন্নত স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করবে তার সরকার। জনগণকে তার ইচ্ছা ও সুবিধা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবীমা ক্রয়ের সুবিধা দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘটনাবহুল শুরুর পর তলানিতে নেমে যাওয়া জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনাই তার এ ভাষণটির লক্ষ্য ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভাষণে তিনি ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বাণিজ্য চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ও যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরেন।