বিশ্ব সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে চায় তুরস্ক

শেয়ার বিজ ডেস্ক: রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের উত্তেজনা বেড়েছে। এর মধ্যে এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। গত শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কেনা নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। এ মাসে আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে ওই আলোচনা অব্যাহত রাখবেন বলেও তুর্কি প্রেসিডেন্ট। খবর: রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা উপেক্ষা করে ২০১৯ সালের ১২ জুলাই রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০-এর প্রথম চালান গ্রহণ করে তুরস্ক। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনায় আঙ্কারার ওপর ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র। এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় চুক্তি অব্যাহত থাকলে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে তুরস্ককে বাদ দেওয়ার সতর্কতা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। হুশিয়ার করা হয়েছে, অর্থনৈতিক অবরোধের মুখেও পড়তে হতে পারে দেশটিকে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না।
শুক্রবার রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ফোনালাপের প্রসঙ্গ জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, এস-৪০০-এর যে প্যাকেজই পেয়ে থাকি না কেন, আমরা তোমাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ প্যাট্রিয়ট কিনতে পারি। তবে আমি বলেছি, আমাদের দেখতে হবে যে অন্ততপক্ষে যেন তা এস-৪০০ কেনার শর্তের সঙ্গে মেলে’। এর মধ্য দিয়ে এরদোয়ান যৌথ উৎপাদন বা অনুকূল ঋণের দিকে ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর আগেই জানিয়েছে, তুরস্কের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বিক্রির প্রস্তাবের সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিরিয়া সংঘাতে দু’দেশের নীতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান সংশ্লিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর তার অন্য পর্যায়ের বিশ্বস্ততা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশ তার মিত্র তুরস্ককে আর আঘাত করতে চাইবে না। এটা যৌক্তিক আচরণ হবে না।’

সর্বশেষ..