প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বিগ্ন পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রপ্তানির জিএসপি সুবিধা পেতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনা করার সময়। কিন্তু এরই মধ্যে সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থা ও কয়েক ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটি। এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অর্থনীতির দিকে যায় কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশের তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তরা। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিষয়টি সমাধান করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান।

তিনি গতকাল অর্থনীতি-বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টাস ফোরাম (্ইআরএফ) আয়োজিত ইআরএফ-ডায়ালগে এ বিষয়ে কথা বলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে এ সংলাপে কথা বলেন তিনি। এসময় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিজিএমইএ সভাপতি।

ফারুক হাসান জানান, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের বের হয়ে যাওয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নন। কারণ এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এরই মধ্যে বিজিএমইএ সরকার ও ক্রেতা দেশগুলোর সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। ২০২৬ সালের পর থেকে নিয়ম অনুযায়ী আরও তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে এলডিসি সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি এ সময়কে ১০ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করতে। এজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক দেশের সঙ্গে অ্যাপারেল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। আমি সম্প্রতি একাধিক দেশও সফর করেছি বিষয়টি নিয়ে।’

ফারুক হাসান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রপ্তানির প্রধান বাজার। বৃহত্তম এই বাজারে তৈরি পোশাক জিএসপি সুবিধা পেত না কখনোই, এখনও পাচ্ছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছিল সেগুলো পোশাক মালিকরা ও সরকার বাস্তবায়ন করেছে। কমপ্লায়েন্স বা নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করতে এদেশের উদ্যোক্তারা প্রচুর বিনিয়োগ করেছেন। বিশ্বের নিরাপদ কারখানা এখন বাংলাদেশে। ১৫৩টি গ্রিন বা পরিবেশবান্ধব কারখানা তৈরি করেছেন বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা। দেশটির জিএসপি সুবিধা দেয়ার সঙ্গে শুধু শর্ত বাস্তবায়ন নয়, রাজনীতিও জড়িত। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে।

বাংলাদেশের র‌্যাব ও সংস্থাটির কিছু কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ব্যবসায় পড়বে কি নাÑসাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। তবে ব্যবসায়ীদের কাজ তারা করছেন। আমরা কোনো বাজার হারাতে চাই না।

আগামী জাতীয় নির্বাচন ও দেশের রাজনীতি-সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আগামী নির্বাচন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ী হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রত্যাশা যে, কারখানায় উৎপাদন ও পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়, এমন কোনো কর্মসূচি যাতে তারা না নেয়। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, সেই পরিবেশ থাকতে হবে। আমরা চাই সবাই মিলে দেশের অর্থনীতির দিকে খেয়াল রাখবেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না ব্যবসা করতে গেলে রাজনৈতিক আশীর্বাদ লাগে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক হাসান বলেন, অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স ২০ থেকে ৩০ বছর আগে নেয়া। তিন দশক আগে বাংলাদেশ যে ধরনের পণ্য তৈরি করত, এখন তার চেয়ে ভিন্ন ও উন্নত পণ্য তৈরি করছে। ফলে পুরোনো বন্ড লাইসেন্সে অনেক পণ্যেরই উল্লেখ নেই, কিন্তু ওই লাইসেন্সধারী কারখানার নতুন পণ্যের প্রয়োজন হচ্ছে। লাইসেন্সে উল্লেখ না থাকলেও ব্যবহারিক ঘোষণাপত্রে (ইউডি) তা থাকছে। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনেক সময় পণ্য ছাড় করছে না। এতে ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আমদানি মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে পণ্য রপ্তানি বেড়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনার সময়ে ক্রেতাদের অনেক দাবি দেশের রপ্তানিকারকরা রেখেছেন। বিশেষ করে পরে ডেলিভারি, দেরিতে মূল্য পরিশোধ, ডিসকাউন্ট প্রভৃতি সুবিধা দেয়া হয়েছে। অনেক দেশেই উৎপাদন বন্ধ ছিল। ক্রেতারা প্রচুর ক্রয়াদেশ দিয়েছেন। তার সবটুকুই পূরণ করা গেছে। এসব কারণে ক্রেতাদের সঙ্গে রপ্তানিকারকদের একটি সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এ কারণে দেশে গার্মেন্ট এক্সেসরিজ, স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাতে সামনে আরও বিনিয়োগ করবেন উদ্যোক্তারা। খাতগুলো আগামীতে অনেক বড় হবে।

দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রকৃত কর্মীসংখ্যার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রকৃত পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকের সংখ্যা প্রকাশ করা হবে। পোশাক কারখানা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম থেকে সরিয়ে জেলা পর্যায়ে নেয়ারও চেষ্টা চলছে খরচ কমিয়ে আনতে। পোশাকের ন্যূনতম দর বিষয়ে তিনি বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ যৌথভাবে একটি কমিটি করেছে।

সংলাপটি রাজধানী ঢাকার পল্টনে অবস্থিত ইআরএফের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপটি পরিচালনা করেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম। এ সময় সংগঠনের সহসভাপতি ও বার্তা সংস্থা এএফপির ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।