প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের গুরুত্বারোপ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেছে জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রতিনিধিদল। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১৯ মে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশীয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রাষ্ট্রদূত ডোনাল্ড লু’র সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং কংগ্রেসম্যান ডোয়াইট ইভান্সের সেগ ক্যাপিটল হিলে লঙ্গওর্থ-এ তার কার্যালয়ে বৈঠক করে সংসদীয় প্রতিনিধিদল।

এছাড়া প্রতিনিধিদলটি ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) প্রেসিডেন্ট ড. ড্যানিয়ে টুইনিংয়ের নেতৃত্বে সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণ করে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

বৈঠক ও আলোচনাগুলো উচ্চ মাত্রায় উষ্ণ ও আন্তরিকতাপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহিদুল ইসলাম ও দূতাবাসের সিনিয়র কর্মকর্তারা এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সংসদীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফারুক খান। অপর সদস্যরা হলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ, নাহিম রাজ্জাক ও কাজী নাবিল আহমেদ।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রাষ্ট্রদূত ডোনাল্ড লু’র সঙ্গে বৈঠকে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্বের অন্তর্ভুক্ত সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত লু বাংলাদেশ সরকারের কভিড-১৯ মহামারি ব্যবস্থাপনার অত্যন্ত প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের টিকা বিতরণ ব্যবস্থাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার দৃষ্টিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও কভিড-১৯ সহায়তা হলো দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ খাত। আইটি ও আইসিটি সেক্টরের বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষ কথা বলেন এবং সিলিকন ভ্যালি ও বাংলাদেশের হাই-টেক পার্কগুলোর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দ্রুত প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে সফরকারী প্রতিনিধিদল। সম্প্রতি র?্যাব ও সংস্থাটির সিনিয়র কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও আলোচনায় তোলেন তারা। দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং ব্যবাসীয়দের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য প্রতিনিধিদলের নেতা ফারুক খান এমপি ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সরাসরি ফ্লাইট আবার চালু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শ্রম অধিকার খাতে সহযোগিতা, অবকাঠামো প্রকল্পে বড় বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের ডিএফসি অর্থায়ন, গণতন্ত্রের প্রসার ও মানবাধিকারের জন্য বাংলাদেশের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং চলমান প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ওয়েইজ ও মিন্স কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কংগ্রেসম্যান ডোয়াইট ইভান্স তার নির্বাচনী এলাকা ফিলাডেলফিয়ার স্থানীয় কমিউনিটির উন্নতিতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সক্রিয় ভ‚মিকার প্রশংসা করেন।

২০১৯ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে কংগ্রেসম্যান ইভান্স প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের যুক্তরাষ্ট্র সফর যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও বৃদ্ধি করবে। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্বকে আরও নিবিড় করতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতি নিজের সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন তিনি। উভয়পক্ষ ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট আবার চালু করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার প্রশংসা করে বাংলাদেশি পক্ষ। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অবিরত রাখতে ইউএস ক্যাপিটল ও বাইডেন প্রশাসনে নিজেদের উদ্যোগ জারি রাখার জন্য কংগ্রেসম্যান ইভান্সের প্রতি অনুরোধ করেন তারা।

১৯ মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত থিংক ট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিউটের (আইআরআই) সঙ্গে প্রতিনিধিদলটি একটি গোলটেবিল আলোচনায় বসে। আইআরআই পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ড. ড্যানিয়ে টুইনিং। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইআরআই’র এশিয়া শাখার ডিরেক্টর ইয়োহান্না কাও, ডেপুটি ডিরেক্টর রোন্ডা মেজ, অ্যাসোসিয়েটে ডিরেক্টর ম্যাট কার্টার, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার রুহুল্লাহ নিয়াজি, বাংলাদেশ প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. জিওফ্রি ম্যাকডোনাল্ড এবং ওয়াশিংটন ডিসি’র বাংলাদেশ দূতাবাসের ক‚টনীতিকরা।

স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রতিনিধিদলটি উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে বাংলাদেশ সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রতিনিধিদলটি তুলে ধরে যে, সরকারের এসব উদ্যোগে সব দলের সমর্থন ও ভূমিকা প্রয়োজন, কারণ শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের সবার ভ‚মিকা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে আইআরআই’র সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছে প্রতিনিধিদলটি।