বিশ্বসাথে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি চীনের

শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তির আগে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের পক্ষ থেকে আরোপ করা বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে চীন। দেশটির ইংরেজি ভাষার দৈনিক ‘গ্লোবাল টাইমস’-এ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ দাবি জানানো হয়েছে। খবর: রয়টার্স।

দুই পক্ষের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের অবসান হবে কি না, তা নিয়ে যখন নানা সংশয় রয়েছে, তখন চীনের পক্ষ থেকে এ মনোভাব ব্যক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার ব্যাপারে চীনের যেসব কর্মকর্তা জড়িত, তাদের একটি সূত্র গ্লোবাল টাইমসকে জানিয়েছে, চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে বাড়তি শুল্কারোপ করা হয়েছে এবং শুল্কারোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে পরিকল্পনা করেছে, সেগুলো অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে। এটি হবে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চীনের পত্রিকাটি বলেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা বেইজিংয়ের এ দাবিকে প্রতিরোধ করে চলেছেন। চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, বাড়তি শুল্ক হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতের একমাত্র অস্ত্র; এটি প্রত্যাহার করাকে তারা অস্ত্রসমর্পণ বলে বিবেচনা করেন।

‘গ্লোবাল টাইমস’-এর পক্ষ থেকে মার্কিন সরকারের বাণিজ্যবিষয়ক আলোচক প্রতিনিধিদল এবং মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর মার্কিন সরকার চীনের ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপ করে। গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রথম পর্যায়ের বাণিজ্যচুক্তির একেবারে দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তেজনা কমে আসবে। তার আগে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে চলা বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে চীনের হাজার হাজার কোটি ডলারের রপ্তানি পণ্যে শুল্কারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের বাণিজ্য ও শিল্পনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও চীন সে পথে না হেঁটে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। তারাও হাজার হাজার কোটি ডলারের যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি পণ্যে পাল্টা শুল্কারোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের দাবি, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি এবং তা স্থানান্তর বন্ধ করতে হবে চীনকে। এছাড়া চীনের স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে যে ধরনের প্রতিবন্ধক ভর্তুকি দেওয়া হয়, সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি চীনের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পণ্য ক্রয় বাড়াতে হবে চীনকে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..