বিশ্ব বাণিজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিবাদে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে বাণিজ্য: চীন

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনা কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। গত রোববার চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ঝং শাস এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাণিজ্য নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুই ক্ষেত্রেই। খবর: রয়টার্স।
এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ দুটি পরস্পরের ওপর হাজার হাজার কোটি ডলারের পণ্যে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে। এতে আর্থিক বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে এবং বিশ্ব প্রবৃদ্ধিও হুমকিতে রয়েছে।
আগামী ১০-১১ অক্টোবর ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে নতুন দফায় আলোচনায় বসার কথা। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিউ হি ওয়াশিংটনের বৈঠকে বেজিংয়ের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেবেন। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার থেকে চীনা কোম্পানিগুলোকে বাদ দেওয়ার কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এটি বাণিজ্যযুদ্ধের সর্বশেষ সংযোজন। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ল। এতে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই হুশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাড়তি শুল্কারোপ প্রবণতায় বিশ্ব মন্দাবস্থার মধ্যে পড়তে পারে।
তিনি জোরালো ভাষায় বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ শান্তিপূর্ণ, যৌক্তিক ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে নিরসন করার ক্ষেত্রে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ ওয়াং ই বলেন, বাণিজ্য নিয়ে সৃষ্ট বাড়তি শুল্কারোপ এবং উসকানি আন্তর্জাতিক শিল্পকারখানা ও সরবরাহ চক্রকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যার কারণে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য শৃঙ্খলায় বিঘœ ঘটছে। এর ফলে বিশ্বে মন্দা অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ভাষণে আরও বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলছি, চীন হচ্ছে পাঁচ হাজার বছরের সভ্যতার একটি দেশ, ৯৬ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ভূখণ্ডে ১৪০ কোটি কঠোর পরিশ্রমী ও সাহসী জনতার বাস। এ চীন কোনো শক্তির হুমকি ও চাপের মুখে ভয় পাবে না।’ তিনি বলেন, এ পর্যন্ত চীন যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তা বিপরীত পক্ষের পদক্ষেপের প্রয়োজনীয় জবাব ও বৈধ অধিকার। মার্কিন একত্ববাদী নীতির বিষয়ে ওয়াং ই সুস্পষ্ট ভাষায় বলেন, এ ধরনের আচরণের মুখে আমরা অলসভাবে বসে থাকব না। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের কারণে বিশ্বে শুধু গোলযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে যখন চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে, তখন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে ভাষণে এসব কথা বলেন।
চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে গত বছর থেকে বেইজিংয়ের রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের কথিত সংরক্ষণবাদ নীতির ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বেইজিংও মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে। বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা কমাতে এ বছর ওয়াশিংটন ও বেইজিং কয়েক দফা বৈঠকও করেছে।

সর্বশেষ..