বিশ্ব সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি

জ্বালানি সরবরাহ লাইনে সাইবার হামলা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় একটি জ্বালানি সরবরাহ পাইপলাইনে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর দেশটির ১৮টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। স্থানীয় সময় রোববার রাতে (বাংলাদেশ সময় সোমবার) তিনি জরুরি অবস্থা জারি করেন। এর আগে গত শুক্রবার সরবরাহ লাইনে সাইবার হামলার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। খবর: বিবিসি, গার্ডিয়ান, নিউজউইক।

হামলার শিকার ওই প্রতিষ্ঠানটির নাম কলোনিয়াল পাইপলাইন। এ লাইনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি অঙ্গরাজ্যে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। হামলার পর তথ্য চুরি ঠেকাতে পূর্ব উপকূলে যাওয়া জ্বালানির ৪৫ শতাংশ সরবরাহকারী সাড়ে পাঁচ হাজার মাইল দীর্ঘ লাইন বন্ধ করে রাখা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি তাদের পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ২৫ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবহন করে। এর বেশিরভাগই ডিজেল, গ্যাসোলিন ও জেট ফুয়েল, যা আমেরিকার পূর্ব উপকূলে প্রয়োজনীয় মোট জ্বালানির প্রায় ৪৫ শতাংশ।

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার এই সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের ধারণা, অর্থ আদায়ের উদ্দেশেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এ সাইবার হামলা চালানো হয়েছে।

এরপরই সর্তকতামূলক রোববার দেশটির যে ১৮টি রাজ্যে তেল সররবাহ করা হয়, সেসব রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর আগে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানান, সাইবার হামলার বিষয়টি শনিবার সকালেই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে জানানো হয়। সংস্থাটি যাতে দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারে, সেই বিষয়েও সচেষ্ট রয়েছে বাইডেন প্রশাসন।

এদিকে জরুরি অবস্থা জারি করার কারণে এখন সড়কপথে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে পারবে সংস্থাটি। তবে জ্বালানি সরবরাহের এই পাইপলাইনে সাইবার হামলার পেছনে কোনো দেশ নয়, বরং একটি ‘সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র’ জড়িত বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।

শুক্রবার হামলার পরেই সাময়িকভাবে কাজকর্ম বন্ধ রাখে কলোনিয়াল পাইপলাইন। এর পাশাপাশি সংস্থাটি জানিয়েছে, কীভাবে এমনটা ঘটল এবং ভবিষ্যতে কোন পদ্ধতিতে এর পুনরাবৃত্তি এড়ানো যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে জ্বালানি সরবরাহ থমকে যাওয়ায় গ্যাসোলিন পাম্পগুলোয় মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোমবার জ্বালানি তেলের মূল্য দুই থেকে তিন শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে যদি এ অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হয়।

এদিকে কলোনিয়াল পাইপলাইন কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের করপোরেট কম্পিউটার নেটওয়ার্ক র‌্যানসমওয়্যার হামলার কবলে পড়েছে। হ্যাকাররা পাইপলাইনের সংবেদনশীল অংশে হামলা চালানোর মতো তথ্য নিয়ে নিতে পারে, এ শঙ্কায় সাবধানতার অংশ হিসেবেই পাইপলাইনটি ‘শাটডাউন’ করে দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা। র‌্যানসমওয়্যার হামলায় হ্যাকাররা মুক্তিপণ না দেয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জিম্মি করে রাখে।

কর্মকর্তারা জানান, হ্যাকাররা বৃহস্পতিবার থেকেই ওই পাইপলাইনে হামলা শুরু করে এবং তারা বিপুল পরিমাণ তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে।

হ্যাকারদের মুক্তিপণ দেয়ার পরিকল্পনা আছে কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে শনিবার কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানায় কলোনিয়াল। কবে থেকে পাইপলাইনের কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে, সে বিষয়েও কিছু বলেনি তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় জ্বালানি পাইপলাইনে সাইবার হামলার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির প্রশাসন কিছুদিনের মধ্যেই সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বিস্তৃত আকারের নির্বাহী আদেশ দিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা যে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে রয়েছে, এই হামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে তা ফুটে উঠেছে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ র‌্যানসমওয়্যার হামলা চালিয়েছে ‘ডার্কসাইড’ নামে পরিচয় দেয়া একটি ক্রিমিনাল গ্যাং। তারা গত বৃহস্পতিবার কলোনিয়াল পাইপলাইনের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে প্রায় ১০০ গিগাবাইট ডেটা দখল করে। এরপর হ্যাকাররা কিছু কম্পিউটার ও সার্ভারের ডেটাও ‘লক’ করে দেয় এবং শুক্রবার এগুলোর বিনিময়ে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে তথ্যগুলো তারা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে।

রোববার রাতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের চারটি প্রধান লাইন এখনও বন্ধ। তবে টার্মিনাল ও বিতরণ পয়েন্টগুলোর মধ্যে কয়েকটি ছোট লাইন চালু রয়েছে।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এ কলোনিয়াল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশটির পূর্ব উপকূলের ১৮টি অঙ্গরাজ্যে পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। রাজ্যগুলো হলো আলাবামা, আরকানসাস, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া, ডেলাওয়ার, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, কেন্টাকি, লুইসিয়ানা, ম্যারিল্যান্ড, মিসিপিসি, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলিন, পেনসেলভানিয়া, সাউথ ক্যারোলিন, টেনিসিই, টেক্সাস ও ভার্জিনিয়া রাজ্য।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..