বিশ্ব সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ অব্যাহত

জর্জ ফ্লয়েড হত্যা

শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে টানা অষ্টম দিনের মতো প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোয় হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে  প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হয়েছে। কঠোর কারফিউ, মেয়রদের অনুরোধ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ কিছুই মানেনি তারা। খবর: রয়টার্স। 

২৫ মে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে পুলিশের নির্যাতনে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামনে আসার পর শুরু হওয়া প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ-সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪০টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। এসব শহরের মধ্যে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও সবচেয়ে জনবহুল শহর নিউ ইয়র্কও আছে। নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে কিছু লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা ও সিয়াটলেও বড় ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউস-সংলগ্ন লাফায়েট পার্কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে প্রতিবাদকারীরা। প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে হেঁটে নিকটবর্তী সেন্ট জনস এপিস্কোপাল গির্জায় গিয়ে যেন ছবি তুলতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে সোমবার পার্কটিতে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ।

রাত নেমে আসার পর কারফিউয়ের মধ্যেই লাফায়েট পার্ক ও রাজধানীর অন্যান্য স্থানে বিক্ষোভ চলতে থাকে। সেখানে স্লোগান দেওয়া হয়, ‘নো জাস্টিস, নো পিস।’

নিউ ইয়র্ক শহরে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় কারফিউ শুরু হলেও কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীর প্রতিবাদ মিছিল চলতে থাকে। মাথার ওপর ‘পুলিশের হেলিকপ্টার চক্কর দিলেও তা তারা গ্রাহ্য করেনি। মিছিলটি ম্যানহটন সেতুর দিকে যাওয়ার পর সেখান থেকে প্রতিবাদকারীরা রাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদেরও বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।

লস অ্যাঞ্জেলেসে কয়েকশ প্রতিবাদকারী মিছিল করে হলিউড বুলভার্ডের বিখ্যাত ল্যান্ডমার্কের সামনে গিয়ে জড়ো হয়। প্রতিবাদকারীদের অন্য একটি দল শহরের কেন্দ্রস্থলে পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের কেউ কেউ সামনে লাইন করে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে ধরে ও করমর্দন করে। ডেনভার ও সিয়াটলেও কয়েকশ প্রতিবাদকারী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। রাত নেমে আসার পরও সেখানে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় মিনেসোটা রাজ্য কর্তৃপক্ষ নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে তাদের পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে। এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, ‘প্রজন্মের গভীরে থাকা প্রথাগত বর্ণবাদ’ শেকড়সহ উপড়ে ফেলার পরিকল্পনা নিয়ে তারা বিষয়টি তদন্ত করবেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..