বিশ্ব বাণিজ্য

যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের মজুত বৃদ্ধিতে কমেছে তেলের দাম

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সরবরাহ কমা সত্ত্বেও গতকাল বৃহস্পতিবারও বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। ফলে আগের দুই দিনের কমার ধারা এদিনও অব্যাহত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের মতো জ্বালানি পণ্যের মজুত সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের দাম কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে দুর্বল চাহিদার বিষয়টি নির্দেশ করছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। খবর: রয়টার্স।
বৃহস্পতিবার লন্ডনের বাজারে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি হয় ৬৩ ডলার ৫৬ সেন্টে, আগের দিনের তুলনায় যা ১০ সেন্ট কম। এর আগে বুধবার এক শতাংশ এবং মঙ্গলবার তিন শতাংশ পড়ে যায় তেলের দাম। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে এদিন প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৫৬ ডলার ৫৯ সেন্ট। আগের দিনের তুলনায় এ দাম কমেছে এক দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং মঙ্গলবারের তুলনায় তিন শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা কয়েক সপ্তাহ ধরে তেলের বাজার অস্থির করে রেখেছে। তবে চলতি সপ্তাহে এসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকায় জ্বালানি তেলের দামে নি¤œমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ব্যাপারে আলোচনার সম্ভাবনার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, ক্রুডের মজুত অন্তত ৩১ লাখ ব্যারেল কমেছে, বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস করা ২৭ লাখ ব্যারেলের তুলনায় যা বেশি। তবে গ্যাসোলিন মজুতের পরিমাণ ৩৬ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ৯ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল কমার।
এদিকে গত জুনে জাপানের রফতানির পরিমাণ টানা সপ্তম মাসের মতো কমেছে। এর মধ্যে শুধু চীনেই রফতানি কমেছে অন্তত ১০ শতাংশ। এ সময় জাপানের উৎপাদন খাত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিরোধ এবং জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক কর্তৃক উৎপাদন হ্রাস চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রভাবে গত সপ্তাহে তেলের দাম বেড়ে যায়। ওপেক সদস্য দেশগুলোর উত্তোলন গত জুন মাসে কমে পাঁচ বছরের মধ্যে তলানিতে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনমতে, গত মাসে ওপেক দৈনিক ২৯ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করেছে। আগের মাসের তুলনায় এ উত্তোলন দৈনিক এক লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল কম। ২০১৪ সালের পরে এটিই ওপেকের সবচেয়ে কম উৎপাদন।
মার্কিন প্রশাসন গত বছরের নভেম্বরে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞায় আটটি দেশকে ইরান থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ছয় মাসের জন্য ছাড় দেয়। সম্প্রতি ওই মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইরান থেকে তেল রফতানির পথ বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানতে নারাজ কয়েকটি দেশ। তবে চলতি সপ্তাহে এসে ইরান ইস্যুতে কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেও সুর কিছুটা নরম হতে দেখা গেছে। তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে চলতি সপ্তাহের জ্বালানি তেলের বাজারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..