প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: উৎপাদন ও নতুন অর্ডার বাড়ায় টানা চতুর্থবারের মতো ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানুফ্যাকচারিং প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট (আইএসএম) গত মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপি।

আইএসএম ম্যানুফ্যাকচারিং ইনডেক্স ডিসেম্বরে ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। ১৮টি শিল্পের মধ্যে ১১টির প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে পেট্রোলিয়াম, কয়লা, প্রাথমিক ধাতু, নানা ম্যানুফ্যাকচারিং, খাদ্য, পানীয় ও তামাক উৎপাদন বড় ভূমিকা রেখেছে।

পারচেজিং ম্যানেজার ইনডেক্স ৫০ পয়েন্টের উপরে থাকলে মনে করা হয় সংশ্লিষ্ট খাত প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে।

উৎপাদন সূচকে জ্বালানির সূচক ৪ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়েছে। নতুন অর্ডার বেড়েছে ৭ দশমিক ২ পয়েন্ট। টানা চার মাস সার্বিক সূচক ৫০ পয়েন্টের উপরে থাকলো।

সূচকে রফতানি অর্ডার ৪ পয়েন্ট বেড়েছে। ২০১৪ সালের মে মাসের পর এটাই সর্বোচ্চ। এটাকে বিদেশি চাহিদার একটি ইতিবাচক চিহ্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যদিও মোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাত্র অর্ধেকে বলছে গত মাসে কর্মসংস্থান বেড়েছে তার পরেও কর্মসংস্থান সূচক ডিসেম্বরে দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৫৩ দশমিক ১ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

আইএইচএস গ্লোবাল ইনসাইটের যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বিশ্লেষক মাইকেল মন্টেগোমারি বলেন, টানা চতুর্থবারের মতো ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে প্রবৃদ্ধি অবশ্যই আশাব্যাঞ্জক।

অর্থনীতিবিদ জুয়েল নারোফ বলেন, এ সূচক প্রেসিডেন্ট ওবামার উত্তরসূরির জন্য ইতিবাচক বার্তা। গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক দুর্বল ছিল।

তবে সম্প্রতি এ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, যেটা অবশ্যই ইতিবাচক।

এর আগে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে, দুই বছরের মধ্যে সেটা ছিল সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। আর এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল ভোক্তা খরচ ও রফতানি খাতের।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তথ্যমতে, তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়েছে তিন দশমিক দুই শতাংশ হারে। এর আগে দুই দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের পর এটাই প্রবৃদ্ধির সর্বোচ্চ হার। ওই সময়ে উল্লেখযোগ্য রফতানি ও অভ্যন্তরীণ ভোক্তা খরচ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এদিকে চাকরির বাজারেও সম্প্রতি ইতিবাচক খবর এসেছে।

যাচাই-বাছাই শেষে সুদের হার বাড়িয়েছে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে দেশটির সুদের হার ছিল প্রায় শূন্য।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে সুদের হার শূন্যে নামিয়ে আনে ফেড। অর্থাৎ, কোনো সুদ ছাড়াই ব্যাংকগুলো ফেড থেকে অর্থ ধার করতে পারত। যে হারে ব্যাংকগুলোকে ধার দেওয়া হয়, তাকে ‘ফেডারেল ফান্ডস রেট’ বা ‘নীতিনির্ধারণী সুদহার’ বলা হয়। ৭ বছর পর সুদের হার বাড়ানোর বিষয়টি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখা দেয়।

ফেডপ্রধান জ্যানেট ইয়েলেন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অর্থনীতির জন্য স্বল্পমেয়াদে ধীরে ধীরে সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন এবং এবার একটি পরিমিত হারে বাড়ানো হয়েছে। তবে আগামী বছর আবার নীতিনির্ধারণী সুদের হার বাড়ানো হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জ্যানেট। ‘ফেডারেল ফান্ডস রেট’ আগামী বছর ১ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০১৮ সালে ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০১৯ সাল নাগাদ ২ দশমিক ৯ শতাংশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জ্যানেট ইয়েলেন বলেন, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক কৌশল কী হতে পারে, তা বিস্তারিত না জেনে কিছু বলা ঠিক হবে না।

নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে জানিয়েছেন, কর কমানো, ব্যয় বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা হবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনীতিবিদেরা সুদ হার বাড়ানোর প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।