বিশেষ প্রতিবেদন : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য এক নজিরবিহীন সংঘাতের মুখে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক এই হামলার পর পরিস্থিতি সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
জবাবে ইরান ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ নামক একটি পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। শত শত ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে ইরান কেবল ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেই হামলা চালাচ্ছে না, বরং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
এরই মধ্যে হামলার শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরব। ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের রাস তানুরায় অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আরামকো তেল শোধনাগারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দুটি ইরানি ড্রোনের হামলার পর কাতারএনার্জি তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন স্থগিত করেছে।
এই চরম উত্তেজনার মধ্যে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ফ্রেন্ডলি ফায়ারের এই ঘটনায় পাইলটরা নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে, কুয়েতে থাকা চারজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, যা বর্তমান সংঘাতে প্রথম মার্কিন প্রাণহানি। অপরদিকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মতে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।
কূটনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক প্রভাব: হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিজেদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরব, কুয়েত এবং কাতার তাদের দেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতদের তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সার্বিক এই সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু-হু করে বাড়ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় বাণিজ্যিক বিমান চলাচল প্রায় পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের ধাক্কা দিচ্ছে।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post