Print Date & Time : 20 October 2020 Tuesday 6:10 pm

যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার পুঁজিবাজারে চাঙা ভাব

প্রকাশ: August 14, 2020 সময়- 12:27 am

শেয়ার বিজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনবিষয়ক সুখবর, পুনরুদ্ধারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ এবং ভোক্তাব্যয় বৃদ্ধির খবর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বিশ্ব পুঁজিবাজারে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি এশিয়ার পুঁজিবাজারেও সূচক বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারেই সূচকের চাঙা ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। খবর: এএফপি।

অবশ্য বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ ঊর্ধ্বগতি হয়তো বজায় থাকবে না, কারণ নতুন উদ্ধার প্যাকেজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা কোনো উপসংহারে যেতে না পারায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের প্রধান তিনটি সূচকই বেশ ভালো অবস্থানে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের ঊর্ধ্বগতির ইতিবাচক প্রভাব গতকাল বৃহস্পতিবার পড়তে দেখা গেছে এশিয়ার বাজারে। জাপানের পুঁজিবাজারে প্রধান সূচক বেড়েছে এক দশমিক ৯ শতাংশ। ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দর কমায় লাভবান হবে রপ্তানিকারকেরা। এ খবর প্রভাব ফেলেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এ ছাড়া হয়কংয়ের হ্যাংসেং ও চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক বেড়েছে। বেড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও নিউজিল্যান্ডের পুঁজিবাজারের সূচক।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষক কেভিন ক্যারন বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে যে মূল শক্তি বাজারকে চালাচ্ছে, তা সত্যিই গতি এনেছে। বর্তমানে এমন এক পুঁজিবাজারে আমরা এসেছি, যেখানে ভাইরাস প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ ও পুনরুদ্ধারে নেওয়া পদক্ষেপ বড় প্রভাব ফেলছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তা বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে ছড়িয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে গেছে এবং মারা গেছেন সাত লাখ ৩৯ হাজারের বেশি মানুষ। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিতে।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯ প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া। ভ্যাকসিনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অন্যান্য দেশের সন্দেহ রয়েছে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, তার নিজের মেয়ের শরীরেই এর পরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং এতে ভ্যাকসিনটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের তৈরি অন্তত দুই শতাধিক ভ্যাকসিন পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপে রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৪টি মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে মানবদেহে শেষ ধাপের পরীক্ষায় চারটি ভ্যাকসিন রয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।  চলতি বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের দিকে করোনার অন্যান্য ভ্যাকসিন পাওয়া যেতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রত্যাশা করছেন। এ খবরের প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে।

এছাড়া করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকারের আর্থিক প্রণোদনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নেওয়া উদ্যোগের কারণেও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাব্যয় বেড়েছে। এছাড়া চীনের অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। টানা দুই মাস দেশটির রপ্তানিতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এসব কারণে বিশ্ব পুঁজিবাজারে কিছুটা চাঙা ভাব দেখা গেছে।