বিশ্ব বাণিজ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনায় বেড়েছে তেলের দাম

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি চুক্তির সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। চুক্তির বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার চীন আভাস দেওয়ার পর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বিশ্ব প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি ও জ্বালানির চাহিদা হ্রাসের যে আশঙ্কা ছিল, তা কেটে যাবে। এর প্রভাবেই মূলত দাম বেড়েছে পণ্যটির। খবর: রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চুক্তি আরও দেরি হবেÑএমন আশঙ্কার পর গত বুধবার তেলের দাম এক দশমিক ২২ শতাংশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশার বাণী শোনালে পণ্যটির দাম বাড়ে। গত শুক্রবার লন্ডনের বাজারে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয় ৬২ ডলার ৫০ সেন্টে, আগের দিনের তুলনায় যা ৭৬ সেন্ট বেশি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে এদিন প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম পৌঁছায় ৫৭ ডলার ২৭ সেন্টে। আগের দিনের তুলনায় এ দাম ৯২ সেন্ট বেশি।

এর আগের বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির শ্লথগতির কারণে ২০২০ সালে জ্বালানির চাহিদা কমবে। এতে পণ্যটির দাম আরও কমতে পারে। কিন্তু চীনের আশ্বাসের পর বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনে বহুল প্রত্যাশিত সমঝোতা চুক্তি আগামী ডিসেম্বরে স্বাক্ষর হতে পারে বলে মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। লন্ডনে ওই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হতে পারে। সমঝোতার লক্ষ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপ ধাপে ধাপে কমানোর বিষয়েও একমত হয়েছে দুদেশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য বেশ কয়েকটি জায়গার কথা বিবেচনা করা হয়েছে। মূলত নভেম্বরের মাঝামাঝি চিলিতে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক নেতাদের সম্মেলনে ওই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। এখন সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে লন্ডনকে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেখানে আগামী ৩ থেকে ৪ ডিসেম্বর ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তবে এটি এখনও সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। বৈঠকের জন্য এশিয়া ও ইউরোপের বেশকিছু জায়গার কথা সামনে আসছে। এর মধ্যে সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের কথাও শোনা যাচ্ছে বেশ জোরালোভাবে। তিনি বলেছেন, চীন উত্তেজনা নিরসনে দ্রুত চুক্তি করতে চায়। এটি এমন এক সময় হতে যাচ্ছে, যখন ২০২০ সালের নির্বাচনে পুনরায় অংশ নেওয়ার আগে অভিশংসন হওয়ার চাপে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রথম দফা চুক্তির আগে গত সেপ্টেম্বরে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছে চীন। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সমঝোতা আলোচনার জন্য ১৫ ডিসেম্বরের শুল্কারোপের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়া ১২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যে আরোপিত ১৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার চাচ্ছে বেইজিং। এছাড়া এর আগে আরও অন্তত ২৫ হাজার কোটি ডলারের যন্ত্রাংশ ও সেমিকন্ডাক্টর পণ্যে আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি করা হয়েছে। চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন জানিয়েছেন, তারা চীনা রফতানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব শুল্ক যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাহারের জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..