বিশ্ব সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শিগগিরই

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিনের আশাবাদ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ইস্যুতে দ্বিতীয় দফার চুক্তির বিষয়ে শিগগিরই আলোচনা শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন। গত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। খবর: রয়টার্স।

মুচিন বলেন, ‘আমি আশা করছি চীন তাদের ক্রয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে আরোপিত বাকি শুল্কও প্রত্যাহার করবে। প্রথম চুক্তিতে তারা ২০০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত মার্কিন পণ্য কিনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফার চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।’  

দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধ অবসানে গত ১৫ জানুয়ারি প্রথম দফার বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যদিও এ চুক্তি কতটুক ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশ্লেষকদের। তবে প্রবৃদ্ধির নি¤œহারের কারণে বেইজিং শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ হার নিয়ন্ত্রণে ট্যাক্স মওকুফ এবং অবকাঠামোগত কার্যক্রমে অভ্যন্তরীণ সরকারকে বড় অঙ্কে বন্ড বিক্রির অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এছাড়া চীনের ব্যাংকগুলোকেও অধিক পরিমাণে ঋণ দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, বিশেষ করে ছোট খামারের জন্য। গত বছর স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ দেওয়া হয়েছে প্রায় দুই দশমিক ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশটির নতুন রেকর্ড।

দুদেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লিউ হে ১৫ জানুয়ারি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর এ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় উভয় পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তি মার্কিন অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনবে। আর চীনা নেতারা এটিকে উইন-উইন চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। এটি দু’পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালো করবে বলে তারা মনে করছেন।

প্রথম পর্বের এ চুক্তি স্বাক্ষর করার পর এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরকার। ২০২০ সালে বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যকার এ আলোচনা প্রথম পর্বের তুলনায় আরও জটিল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চুক্তি হলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে বিদ্যমান শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গেও একই ধরনের বাণিজ্যবিরোধ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের, যার সমাধানে আসতে পারেনি উভয় পক্ষ। চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ে জটিলতাও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

নতুন বাণিজ্যচুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়িয়ে ২০ হাজার কোটি ডলারের ওপরে নিয়ে যাবে চীন। এর মধ্যে কৃষিপণ্য আমদানি বাড়াবে তিন হাজার ২০০ কোটি ডলারের। পাশাপাশি শিল্পপণ্য সাত হাজার কোটি ডলার, বৈদ্যুতিক সামগ্রী পাঁচ হাজার ২০০ কোটি ডলার এবং সেবা খাতে তিন হাজার ৮০০ কোটি ডলারের আমদানি বাড়াবে চীন। পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক পণ্য চুরির যে অভিযোগ রয়েছে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়েছে চীন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..