বিশ্ব সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তিস্বাক্ষর ১৫ জানুয়ারি

শেয়ার বিজ ডেস্ক : দীর্ঘ বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে চলতি সপ্তাহে প্রথম দফার বাণিজ্যচুক্তি করতে চলেছে বিশ্বের প্রধান দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যে যে প্রভাব পড়েছিল, নতুন চুক্তির ফলে তা কেটে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি চুক্তিটি সই হতে যাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। খবর: রয়টার্স। 

এ চুক্তি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিজয় বলেই প্রচার করবে হোয়াইট হাউস। যদিও এ চুক্তির আগে ট্রাম্পের উসকানিমূলক সিদ্ধান্তের কারণে ওয়াশিংটন-বেইজিং বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে গেলে বিশ্ববাসীকে কড়া মাশুল দিতে হয়।

বহুল প্রতীক্ষিত এ চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে হোয়াইট হাউস চাইছে, চীন যেন দুবছরমেয়াদি চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের আমেরিকান পণ্য কেনে। এর মধ্যে থাকবে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য। এর বিপরীতে এরই মধ্যে চীনের ইলেকট্রনিকস ও সেলফোনের মতো যেসব পণ্যে নতুন করে শুল্কারোপ করা হয়েছে (যে শুল্ক গত ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল), তা তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ সেপ্টেম্বর যেসব পণ্যে শুল্কারোপ করা হয়েছে, সেসবের মধ্যে ১২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক অর্ধেক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদদের গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের বাণিজ্যনীতি বিশেষজ্ঞ এডওয়ার্ড অ্যালডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার গুরুতর বিষয়গুলো এখনও সমঝোতার পর্যায়ে আছে। তাছাড়া রাজনৈতিকভাবে বলতে গেলে, এ চুক্তি চলতি বছর মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাবমূর্তির পক্ষেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। 

ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করতে পারে যে, এ চুক্তি চীনের জন্য কঠিন হলেও ট্রাম্প তা কার্যকর করেছেন। এক্ষেত্রে ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময় সমর্থকদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাও তিনি রক্ষা করেছেন বলতে পারবেন। গত বছরের শেষদিকে হোয়াইট হাউসে এ চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন প্রেসিডেন্ট বলেন, ১৫ জানুয়ারি চীনের সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের চুক্তি করবে যুক্তরাষ্ট্র।

যদিও গত ৯ জানুয়ারি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশটির ভাইস প্রিমিয়ার লিউ হে’র তিন দিনের (১৩-১৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র সফরের ঘোষণা দেওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অস্পষ্টই ছিল। গত ১০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) পক্ষ থেকে বলা হয়, বুধবারই পুরো নথিপত্র প্রকাশ করা হবে এবং একটি আনন্দঘন আয়োজন হবে।

চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে ২০১৮ সাল থেকে দেশটির রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা জবাব হিসেবে মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায় চীনও। তবে দু’পক্ষের কূটনৈতিক পর্যায়ে বৈঠক ও সংলাপে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটে।

ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম পর্যায়ের হলেও এ চুক্তির আওতায় দু’পক্ষই কৃষিপণ্য, জ্বালানি, শিল্পপণ্যসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য ক্রয়ে সম্মত হয়েছে। প্রযুক্তি স্থানান্তর, মেধাস্বত্ব, কৃষি, আর্থিক সেবা, মুদ্রা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিনিময়সহ অনেক বিষয় থাকছে এ চুক্তিতে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..