বিশ্ব সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা বিশ্ব পুঁজিবাজারে উত্থান

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দীর্ঘদিনের বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রথম দফায় বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে চলতি সপ্তাহে। এ সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে পরিবর্তন হয়েছে। গতকাল বিশ্ব পুঁজিবাজার রেকর্ড সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছায়, যদিও চুক্তি হওয়া পর্যন্ত বাজারের দিকেই নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। খবর: রয়টার্স।

গতকাল এশিয়ার পুঁজিবাজার ১৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে অবস্থানে পৌঁছায়। ইউরোপের পুঁজিাবাজার সূচকগুলোও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে লেনদেন শুরু করে। মার্কিন পুঁজিবাজারের ফিউচার সূচকও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। সব মিলিয়ে বিশ্বের সার্বিক সূচক এমএসসিআই, যার মধ্যে ৪৭ দেশের পুঁজিবাজার সূচকের মানদণ্ড হিসাব করা হয়, বেড়েছে দশমিক এক শতাংশ। এদিন এ সূচক পয়েন্ট বেড়ে গত সপ্তাহের রেকর্ড সর্বোচ্চ অবস্থানের এক ধাপ নিচে অবস্থান করে।

গতকাল এশিয়ার পুঁজিবাজারের মধ্যে হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক বেড়েছে এক দশমিক ১১ শতাংশ, চীনের সাংহাই সূচক বেড়েছে দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক বেড়েছে দশমিক ৪৭ শতাংশ। এছাড়া ভারতের প্রধান সূচক সেনসেক্স বেড়েছে দশমিক ৬২ শতাংশ।

ইউরোপের বাজার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু করে। এর মধ্যে লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক দশমিক ৪৮ শতাংশ, জার্মানির ডিএএক্স ও ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচকও কিছুটা বেড়েছে। মার্কিন পুঁজিবাজার সূচক এঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার ইনডেক্স দশমিক ৩১ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

দীর্ঘ বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে চলতি সপ্তাহে প্রথম দফার বাণিজ্যচুক্তি করতে চলেছে বিশ্বের প্রধান দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যে যে প্রভাব পড়েছিল, নতুন চুক্তির ফলে তা কেটে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি চুক্তিটি সই হতে যাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বহুল প্রতীক্ষিত এ চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে হোয়াইট হাউস চাইছে, চীন যেন দু’বছরমেয়াদি চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের আমেরিকান পণ্য কেনে। এর মধ্যে থাকবে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য। এর বিপরীতে এরই মধ্যে চীনের ইলেকট্রনিকস ও সেলফোনের মতো যেসব পণ্যে নতুন করে শুল্কারোপ করা হয়েছে (যে শুল্ক গত ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল), তা তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ সেপ্টেম্বর যেসব পণ্যে শুল্কারোপ করা হয়েছে, সেসবের মধ্যে ১২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক অর্ধেক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদদের গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের বাণিজ্যনীতি বিশেষজ্ঞ এডওয়ার্ড অ্যালডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার গুরুতর বিষয়গুলো এখনও সমঝোতার পর্যায়ে আছে। তাছাড়া রাজনৈতিকভাবে বলতে গেলে, এ চুক্তি চলতি বছর মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাবমূর্তির পক্ষেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। 

ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করতে পারে যে, এ চুক্তি চীনের জন্য কঠিন হলেও ট্রাম্প তা কার্যকর করেছেন। এক্ষেত্রে ট্রাম্প ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময় সমর্থকদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাও তিনি রক্ষা করেছেন বলতে পারবেন। গত বছরের শেষদিকে হোয়াইট হাউসে এ চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন প্রেসিডেন্ট বলেন, ১৫ জানুয়ারি চীনের সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের চুক্তি করবে যুক্তরাষ্ট্র।

যদিও গত ৯ জানুয়ারি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশটির ভাইস প্রিমিয়ার লিউ হে’র তিন দিনের (১৩-১৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র সফরের ঘোষণা দেওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অস্পষ্টই ছিল। গত ১০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) পক্ষ থেকে বলা হয়, বুধবারই পুরো নথিপত্র প্রকাশ করা হবে এবং একটি আনন্দঘন আয়োজন হবে।

চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে ২০১৮ সাল থেকে দেশটির রপ্তানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা জবাব হিসেবে মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায় চীনও। তবে দু’পক্ষের কূটনৈতিক পর্যায়ে বৈঠক ও সংলাপে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটে।

ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম পর্যায়ের হলেও এ চুক্তির আওতায় দু’পক্ষই কৃষিপণ্য, জ্বালানি, শিল্পপণ্যসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য ক্রয়ে সম্মত হয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..