দিনের খবর পত্রিকা শেষ পাতা

যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় পালাবদলের পর প্রথম দেশটি সফরে গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিন দিনের সফরে গতকাল রাতে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এর আগে গতকাল দুপুরে মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমেরিকা যাচ্ছি, এখানে আমাদের কয়েকটি মিটিং আয়োজন হয়েছে। বিশেষ করে নতুন সরকার আসছে। নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন চাই।’
যুক্তরাষ্ট্রে গত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে ডেমোক্র্যাটরা। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন জো বাইডেন।
সফর নিয়ে মোমেন বলেন, ‘আমি ব্রড বেইজড আলাপ করব। তারা নতুন একটা ফরেন পলিসি দিয়েছে। স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখানে ভ‚রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেসব আমরা তাদের তুলে ধরব। সুতরাং তারাও আমাদের সেভাবে দেখে।’
মোমেন জানান, সফরে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি বিøনকেন এবং চেয়ারম্যান অব দি সেনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্কের উন্নয়ন করতে চাই। আমাদের অনেক সম্ভাবনা আছে, আর আমেরিকাও অনেক বড় দেশ। তাদের সঙ্গে যদি আমাদের সম্পর্ক আরও উন্নত করতে পারি, দিস ইজ এ উইন-উইন।’
মোমেন বলেন, ‘আমাদের দেশে এখনে অনেক কিছু অফার করার সুযোগ আছে’Ñএই মন্তব্য করে মোমেন বলেন, ‘আমেরিকা এক নম্বর ইনভেস্টর ইন বাংলাদেশ। মোস্টলি ইন এনার্জি সেক্টর আবার অন্যান্য সেক্টরও আছে। আমরা এখন ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টর ওপেন করেছি। উই ওয়ান্ট টু ব্রডেনিং।’
বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যমে ব্রিফিংয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ সম্পর্কে কোনো কোনো সময় নেতিবাচক প্রচারণা বিদেশে হয়। আমরা সেই নেতিবাচক প্রচারণা নিয়ে সেখানে দুয়েকটা মিডিয়াতে সাক্ষাৎকার দেব। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নেতিবাচক প্রচারণার জবাব দেয়া।’
কী ধরনের নেতিবাচক প্রচারÑসে বিষয়েও বলেন দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে ক‚টনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মোমেন। তিনি বলেন, ‘যেমন ধরুনÑবলা হয় আমরা খুব বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করি। একেবারে মিথ্যা কথা। আমাদের দেশে কালেভদ্রে দুয়েকটা হয়। আমেরিকাতে পুলিশ অনেক লোক মারে, ইচ্ছা করে মারে না, মরে যায়। গত এক বছরে দেখেন ১০০৪ জনকে পুলিশ মেরে ফেলেছে। উইদাউট ডিউ প্রসেস অব দি ল’। ইচ্ছা করে তো মারে না, বিভিন্ন কারণে মারা যায়। আর আমাদের এখানে মনে হয়, যেন আমরা ইচ্ছা করে করেছি!’
কোনো কোনো গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেবেন, তাও এখনও নির্দিষ্ট হয়নি জানিয়ে মোমেন বলেন, ‘মিডিয়া হাউস ওদের ওপর নির্ভর করবে।’
মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরকারের কাউকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগেও আমন্ত্রণ জানিয়েছি। নতুন সরকারকেও আমরা একই রকম আমন্ত্রণই জানাব।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..