শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত আয় করছে ইরান। হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে সক্ষম একমাত্র বড় রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে ইরানি তেলের চাহিদা ও দামÑদুটিই বেড়েছে, যা তেহরানের আয়ের উৎসকে আরও শক্তিশালী করেছে। খবর এনডিটিভি
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুভাবে লাভবান হচ্ছে দেশটি। প্রথমত, তাদের প্রধান ক্রেতা চীনের কাছে এখন তুলনামূলক কম ছাড়ে তেল বিক্রি করছে ইরান, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় রপ্তানি থেকে মুনাফা বেড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পরও ইরানের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, খারগ দ্বীপের টার্মিনালে নিয়মিত বৃহৎ ট্যাংকার ভিড়ছে এবং সেখান থেকে পারস্য উপসাগর হয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে উপসাগরীয় অনেক দেশ যেখানে রপ্তানিতে বাধার মুখে পড়েছে, সেখানে ইরান তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিকভাবে তেল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বাজার স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে সমুদ্রপথে ইরানি তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যা তেহরানের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে।
তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে, মার্চ মাসে ইরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তেল বিক্রি করছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ইরানি তেলের মূল্য ব্যবধান এখন অনেক কমে এসেছে, যেখানে আগে তা ১০ ডলারের বেশি ছিল।
এই অতিরিক্ত আয় দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সামরিক সক্ষমতা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি বাবদও প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ডলার আয় করছে ইরান।
এদিকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এখনও বড় ধরনের ক্ষতির বাইরে থাকলেও কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন তেল-গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কাতারের রাস লাফান এলএনজি কেন্দ্র বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ পারস গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত থাকলেও পরে আলোচনার সুর শোনা গেছে। তবে তেহরান আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post