দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ

ফেনী-নোয়াখালী চার লেন সড়ক

শাহাদাত হোসেন তৌহিদ: ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ৭নং মাতুভূঞা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন ও তার তিন সহযোগী দেলোয়ার, ফারুক, সাদ্দামসহ অজ্ঞাত আরও ছয়জনের বিরুদ্ধে সরকারের ফোর লেন উন্নয়নের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দফায় দফায় শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং এক্সক্যাভেটর ও রোলার মেশিনের চাবি নিয়ে যাওয়ায় শ্রমিক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ। প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ফেনী-নোয়াখালী চার লেন সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে দাগনভূঞা থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্সের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মেজর (অব.) এমএম তারিফ ও কোম্পানির উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক মঞ্জুরুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফেনী থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪৭ কোটি টাকা। দুটি প্যাকেজে বিভক্ত কাজে ফেনীর মহিপাল থেকে নোয়াখালীর সেবারহাট পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। রাস্তার পাশাপাশি নির্মাণকাজের মধ্যে রয়েছে ফেনী অংশে মাতুভূঞা ও সিলোনিয়া সেতু, ৯টি কালভার্ট, দুটি বাস বে-টার্মিনাল, ইন্টারসেকশন (গোলচত্বর) ও ফুট ওভারব্রিজ। এসব কাজে ফেনী অংশে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। গত ৩০ ডিসেম্বর কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মাটির কাজ ও ব্রিজের ডাইভারশন কাজও শুরু হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অব্যাহত হুমকি ও আক্রমণের মুখে আমাদের পক্ষে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে ফেনীর দাগনভূঞা থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

সাধারণ ডায়েরির বিবরণ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা দাগনভূঞা উপজেলা রামনগর ইউনিয়নের বান্দের পাড় এলাকায় নির্মাণ শ্রমিকদের লক্ষ করে ব্যাপক বোমা বর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এর পরদিন মাতুভূঞা এলাকায় শ্রমিকদের ওপর হামলা করা হয়। অভিযুক্তরা দাগনভূঞার বেকের বাজারে অবস্থিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিসেও আক্রমণ চালিয়ে কর্মচারীদের মারধর করে বের করে দেয় বলে জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২ মার্চ বেলা ২টায় উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক মঞ্জুরুল আহসানসহ সুপারভাইজার ও তিন অপারেটর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ব্রিজের ডাইভারশন কাজ করছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে একদল সন্ত্রাসী হানা দেয়। তারা নির্মাণকাজের এক্সক্যাভেটর ও রোলার মেশিন থেকে অপারেটরদের নামিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে চাবি নিয়ে যায় এবং যদি ফের কাজ করা হয়, তবে লাশ গুম করে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে যায়। পরদিন অভিযুক্তরা সন্ধ্যায় বেকের বাজারে বাসায় গিয়ে মঞ্জুরুল ইসলামকেও হুমকি দিয়ে আসে। দুটি জিডিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে মাতুভূঞা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন, দেলোয়ার হোসেন, ফারুক, সাদ্দাম ও অজ্ঞাত আরও ছয়জনকে।

ফেনী সড়ক বিভাগের এসডিই মাকসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শুনেছি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিডি করেছে। তবে জিডির অনুলিপি আমাদের দেওয়া হয়নি। শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয়দের গোলমাল হয়েছে বলে শুনেছি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, সড়কের নির্মাণকাজ চালু রাখার বিনিময়ে মোট বিলের ওপর পাঁচ শতাংশ হারে চাঁদা দাবি করেছে অভিযুক্তরা। এ অর্থ না দিলে কাজ বন্ধ। এই হারে কয়েক কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে তাদের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাকে থানা থেকে বলা হয়েছে, আমার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি হয়েছে, কিন্তু আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসলাম সিকদার সত্যতা নিশ্চিত করে শেয়ার বিজকে বলেন, বিষয়টিতে তদন্ত চলছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..