শেয়ার বিজ ডেস্ক : হঠাৎ কেউ শরীর স্পর্শ করল আর সঙ্গে সঙ্গে হাতের লোমগুলো দাঁড়িয়ে গেল। কিংবা একটু বেশি ঠান্ডা লাগলেই এমনটা হলো। ইংরেজিতে এই ঘটনাকে বলা হয় গুজবাম্পস। বাংলায় বলা হয় গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। এই ব্যাপারটি আসলে কি? শান্তশিষ্ট লোম আচমকাই কেন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে? এর কারণ কী?
বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে আমাদের ত্বকের রোমকূপগুলো শক্ত হয়ে ওঠে। চলতি কথায় আমরা এই বিষয়টিকেই কাঁটা বলে থাকি। এটি প্রত্যেক স্তন্যপায়ীর শরীরেই হয়ে থাকে। স্তন্যপায়ী প্রাণীর শরীরে লোম থাকে। ত্বক যখন ঠান্ডার সংস্পর্শে আসে, তখনই সেই ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে ত্বক নিজে থেকেই একটি আবরণ তৈরি করে নেয়। সেই আবরণকেই আমরা কাঁটা বলে থাকি।
এই কাঁটা দেয়ার বিষয়টি মূলত হরমোনের ব্যাপার। ঠান্ডা বা ভয়ের কারণে শরীরের হরমোনে উত্তেজনা দেখা দিলে তখনই ত্বক এই আবরণ তৈরি করে।
বিজ্ঞানীদের মতে, পুরো ব্যাপারটাই স্নায়ুর খেলা। তার সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে স্টেম কোষের। দুটো মিলেই ত্বকের রোমদের নিয়ন্ত্রণ করে। কখন তারা মাথা তুলে জেগে উঠবে আবার কখন ঘুমিয়ে পড়বে, সবটাই নিয়ন্ত্রণ করে স্নায়ু।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা গুজবাম্প নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন। তাদের গবেষণার রিপোর্ট ‘সেল’ সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, মানুষের ত্বকের নীচের অংশেই যত ঘটনার ঘনঘটা। ত্বক কেবল অনুভব করতে পারে, আসল খেলা হয় ত্বকের নীচে। সেখানে কোষ-কলা, স্নায়ু সব জড়াজড়ি করে থাকে।
রোম তৈরি হচ্ছে যে কোষ থেকে বা রোমগ্রন্থির স্টেম কোষের সঙ্গে স্নায়ু মিলে কাজটি করে থাকে। হার্ভার্ডের গবেষকদের মতে, এই কোষ আর স্নায়ু একটা সেতু তৈরি করে রাখে।
কোনো কারণে শরীরে উত্তেজনা তৈরি হলে কিংবা পরিবেশ-আবহাওয়ার আচমকা বদল হলে সেই বার্তা তারা কোষে পৌঁছে দেয়। কেবল পৌঁছে দেয়াই নয় একেবারে স্টেম কোষে গিয়ে ধাক্কা দেয়। ফলে কোষও সক্রিয় হয় আর তার নিয়ন্ত্রণে থাকা রোমেরাও জেগে ওঠে।
অনেকসময় গান শুনলেও গায়ে কাঁটা দিতে পারে। বিজ্ঞান বলছে, মস্তিষ্কের অনেক স্নায়ু অডিটরি কর্টেক্সের সঙ্গে যুক্ত। অনেকসময় কোনো গান শুনলে শরীরে বিশেষ অনুভূতির হয়। তখনই গায়ে কাঁটা দেয়। আবার বিশেষ কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেও গায়ে কাঁটা দিতে পারে। আর এসব কিছুর পেছনে রয়েছে হরমোন।
এস এস/
প্রিন্ট করুন





Discussion about this post