প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

যে কোনো দুর্নীতির ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’: রূপালী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: খেলাপি ঋণকে নিয়মিত দেখিয়ে, যথাযথভাবে প্রভিশনিং না করে ব্যাংকের মুনাফা দেখানো হয়েছে। ফলে দুই দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাংক। দায়িত্ব নিয়ে সবার আগে চেষ্টা করেছি সঠিক অবস্থা জানার জন্য। এজন্য ব্যাংকিং কর্মকাণ্ডে যে কোনো পর্যায়ে দুর্নীতির ক্ষেত্রে রূপালী ব্যাংক ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।

গতকাল বুধবার প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান।

আগের এমডি এম ফরিদউদ্দিনের মেয়াদ শেষ হলে গত ২৮ আগস্টে আতাউর রহমানকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। গতকাল তার মেয়াদের ১০০ দিন অতিক্রম উপলক্ষে এ মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। এতে ডিএমডি দেবাশীষ চক্রবর্তী, জিএম কায়সুল হক ও বিষ্ণুপদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আতাউর রহমান বলেন, বর্তমানে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। কারণ আগে অনেক খেলাপি

ঋণকে নিয়মিত দেখানো হয়েছে। প্রভিশন ঘাটতি রেখেও আয় দেখিয়ে মুনাফা বাড়ানো হয়েছে। এতে ব্যাংকের প্রকৃতচিত্র যেমন লুকানো হয়েছে, তেমনি মুনাফা থেকে কর দিয়ে আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে। দায়িত্ব নেবার পর  সবগুলো শাখা থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা

হয়েছে। এতে সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এ ধরনের অনিয়ম আর হবে না। অনিয়মের ক্ষেত্রে আমাদের জিরো টলারেন্স।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। এর সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশের শিল্প গড়ে উঠেছে সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে। তবে খেলাপি ঋণের হার সিঙ্গেল ডিজিটের বেশি থাকা উচিত নয়।

উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২৯ কোটি টাকা; যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। গত জুনে যা ছিল দুই হাজার ৩৬১ কোটি টাকা; যা ঋণের ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৮ শতাংশ।

আতাউর রহমান প্রধান আরও বলেন, কোর ব্যাংকিং সল্যুশন (সিবিএস) চালু করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। নভেম্বর পর্যন্ত ৫৬১টি শাখার মধ্যে ৩৭৪টি সিবিএসের আওতায় এনেছি। আগামী মার্চের মধ্যে সবগুলো শাখা এর আওতায় চলে আসবে। সবগুলো শাখা অনলাইনে আসার পর জালজালিয়াতি অনেক কমে আসবে। এতে ব্যাংকের খেলাপি ঋণও কমে যাবে।

তিনি বলেন, ফেনীর এক ব্যবসায়ীকে ১৫৩ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে ৭৮ কোটি টাকা বৈধভাবে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬৫ কোটি টাকা শাখা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অনিয়ম করে দিয়েছেন। এতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাময়িকভাবে ওই শাখার ব্যবস্থাপকসহ জড়িতদের বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে রূপালী ব্যাংকের এমডি বলেন, ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ঋণ ছড়িয়ে দেওয়া। একজনকে কোটি কোটি টাকা ঋণ দিয়ে ঋণ কেন্দ্রীভূত না করে অল্প অল্প করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। চলতি বছর নভেম্বর পর্যন্ত আমাদের ঋণ বিতরণ বেড়েছে সাড়ে ১৭ শতাংশ। ঋণ আদায়েও আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। বড় বড় গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণ আদায় করতে তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে।