সম্পাদকীয়

যৌক্তিক হোক পদ্মা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়

সম্ভাব্যতা যাছাই ও সমীক্ষায় বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে প্রকল্পব্যয় নির্ধারণ করা হয়। নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, নির্মাণসামগ্রী, পরিবহন খরচ বাড়ে। আমাদের দেশে প্রকল্পব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত খুবই কম। পদ¥া সেতুর নির্মাণও নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হচ্ছে না, তাই এটির নির্মাণব্যয় বাড়বে। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজের ‘অধিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, উচ্চহারে টোল আরোপ’ শীর্ষক প্রতিবেদন পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) বলছে, পদ্মা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অনেক বেশি হবে। আবার পদ্মা সেতুর আয়ুষ্কাল ১০০ বছর ধরা হলেও নির্মাণ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাত্র এক বছর এটি দেখাশোনা করবে। এর পরবর্তী সময়ে এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে সেতু বিভাগ।

যৌক্তিক হোক আর অযৌক্তিক হোক, প্রকল্পব্যয় বেড়ে গেলে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হয়। এখন রক্ষণাবেক্ষণের অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ মানুষকে হতাশই করবে। কেননা সেটির মাশুল দিতে হবে ব্যবহারকারীদের। সেতুটিতে উচ্চহারে টোল আরোপ করবে সেতু বিভাগ। এছাড়া পদ্মা সেতুতে ট্রেন চলাচলের জন্য রাখা হয়েছে সিঙ্গেল লাইন রেলপথ। এতে সেতুটিতে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা অনেক কম হবে বলে মনে করছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

আইএমইডি বলছে, ভূগর্ভস্থ মাটি বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক সেগুলোর সেতুর পাইলের ডিজাইন পরিবর্তন করা, ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতার ফলে পুনর্বাসন কার্যক্রমে বিলম্ব ও অধিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হওয়ায় পদ্মা সেতু নির্মাণে এখানে বিদেশি সংস্থার হস্তক্ষেপ হবে না। তাই বলে যেনতেনভাবে প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া কোনোভাবে কাম্য নয়। প্রকল্পের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আইএমইডির পরিবীক্ষণ আমলে নিয়ে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কীভাবে কমানো যায়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। অবশ্য কৃচ্ছ সাধনেরও সুযোগ নেই। রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষ জনবল, যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করে আয়ুষ্কালে সেতুটি পূর্ণ সচল রাখাও জরুরি। 

নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হওয়ায় ব্যবহারকারীদের একটি স্বস্তির বিষয় ছিল, চাপিয়ে দেওয়া হবে না মোটা অঙ্কের টোল। অথচ সেটিই হচ্ছে। বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি টোল দিতে হবে ব্যবহারকারীদের। পরিবহন ব্যবসায়ীরা বাস ভাড়া বাড়িয়ে দেবে।

ক্ষমতায় এসে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেছিল সরকার। পরবর্তী সময়ে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটির ‘দুর্নীতির অভিযোগ’সহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায়  অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এর নির্মাণ। বিশ্বব্যাংকের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থায়নে এটি নির্মাণের ঘোষণা দেন। অবশ্য অর্থায়নের অনুরোধ প্রত্যাহারের জন্য বিশ্বব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়। নানা কারণে আলোচিত পদ্মা সেতুর অতিরিক্ত নির্মাণব্যয় এবং নির্মাণ-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ না হয়, সে লক্ষ্যে বাস্তবানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..