প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

  যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী: চামড়াশিল্প কারখানাগুলোকে কমপ্লায়েন্স অর্জন করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পকে ২০১৭ সালের জন্য ‘প্রোডাক্ট অব দি ইয়ার’ ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ঘোষণা দেন। এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চামড়া খাতের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ খাতের উন্নয়নে নগদ সহায়তাসহ নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

গতকাল রোববার রাজধানীর গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চামড়া খাতের সংশ্লিষ্ট তিনটি সংগঠনের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশিষ বোস, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ, লেদার গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফএসইএ) চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার-লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ মাহিন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলার আয় হবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি থেকে। চামড়াজাত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে গড়ে ১৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। তবে সাভার চামড়া শিল্পনগরী থেকে যারা রফতানি করবেন তারা আরও ৫ শতাংশ বেশি প্রণোদনা পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘চামড়া খাত একটি সম্ভাবনাময় খাত। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাত থেকে ১১৬ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার রফতানি আয় হয়েছে। এটি এখন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রফতানি খাতে উপনীত হয়েছে। আরও উদ্যোগ নিলে এ খাত থেকে পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন আয় করা সম্ভব।’

গত জুনে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুক ২০১৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘৩৫ কোটি জোড়ার বেশি জুতা উৎপাদন করে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম স্থান অর্জন করেছে’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘রফতানিতে আরও বেশি সক্ষমতা অর্জন করতে চামড়াশিল্পের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কমপ্লায়েন্স অর্জন করতে হবে। এছাড়া চামড়াজাত পণ্যে জেনারেল বন্ডের মেয়াদ তিন বছর নির্ধারিত করা, স্পিøট লেদারের আলাদা এইচএস কোড প্রণয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘প্রডাক্ট অব দি ইয়ার ঘোষণার পর এ শিল্পের বিকাশে এবার আমরা বিশেষ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে। খাতের উন্নয়নে বড় আকারের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এছাড়া ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে রফতানির একটি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হবে।’

এ সময় বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেন, ‘কমপ্লায়েন্সের অভাবে আমরা অনেক বাজার হারিয়েছি। অনেক বড় বড় কোম্পানি চলে যাচ্ছে। এখন আমরা কমপ্লায়েন্স অর্জনের চেষ্টা করছি। সম্প্রতি এ খাতের ১০ হাজার শ্রমিককে মানসম্মত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের ২০টি ট্যানারিকে দ্রুত কমপ্লায়েন্স সনদ পেয়ে যাবে।’

খাতের উন্নয়নের জন্য উদ্যোক্তারা এ সময় কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তারা বলেন, লাইসেন্স নবায়নে দীর্ঘসূত্রতার অবসানসহ বিভিন্ন বিষয়ে নীতিগত সহায়তা জরুরি। এছাড়া সাভারের শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নিয়ে চামড়া পণ্যের ব্র্যান্ডিং বৃদ্ধি করা, চামড়ার গুণগত মান ও কাঁচামাল বৃদ্ধির জন্য গবাদিপশু পালনের উদ্যোগ ও কাঁচা চামড়ার আমদানিতে কর অবকাশের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তারা। বাজারে মাংসের দাম বাড়ায় চামড়ার সরবরাহ কমে যাচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

খাতসংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, হাজারীবাগে বর্তমানে ৩০০ মিলিয়ন বর্গফুট চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হয়। চামড়াশিল্প সাভারে স্থানান্তর হলে সেখানে আধুনিক মেশিন ব্যবহার করা হবে। ফলে উৎপাদন ক্ষমতাও বাড়বে। সে সময় বছরে এক বিলিয়ন বর্গফুট চামড়া প্রক্রিয়া করা সম্ভব। এজন্য কাঁচামালের সরবরাহ বাড়ানোর দিকে তারা গুরুত্ব আরোপ করেন।