প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রংপুরের আট জেলায় নিম্নমানের বীজ

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর বিভাগের আট জেলার হাটবাজার বিভিন্ন ফসলের নিম্নমানের বীজে ভরে গেছে। কৃষকরা এসব বীজ নিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। তবে সমস্যা সমাধানে কৃষিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ উদ্যোগী হয়েছে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রংপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের আট জেলায়  চলতি মৌসুমে বোরো বীজের প্রয়োজন দুই লাখ মেট্রিক টনের ওপরে। কিন্তু বিএডিসি বীজ সরবরাহ করেছে মাত্র পাঁচ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ মোট বীজের তিন থেকে চার শতাংশ বিএডিসি সরবরাহ করেছে। এছাড়া ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কৃষকদের সংগৃহীত এবং বাদ বাকি বীজ কৃষকরা স্থানীয় পর্যায়ে হাট বাজার থেকে ক্রয় করেন। রংপুর জেলায় এ বছর আলু বীজের চাহিদা ৭৮ হাজার টনের বিপরীতে মাত্র ৮০০ টন বীজ বিএডিসি থেকে পাওয়া গেছে। ধান ও আলু বীজের মতো সংকট রয়েছে ভুট্টা, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের। বীজ সংকটকে পুঁজি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বিভিন্ন ফসলের বীজ হাট বাজারে দেদারছে বিক্রি করছে। এতে একদিকে কৃষকরা যেমন প্রতারিত হচ্ছে অন্য দিকে ফসলের উৎপাদন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কৃষি দফতরের কর্মকর্তারা। বিএডিসির অতিরিক্ত পরিচালক শাহ আলম নন-ইউরিয়া সারের মতো বিএডিসির মাধ্যমে ভুট্টা, পাট ও বিভিন্ন সবজির বীজ বিদেশ হতে আমদানি করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এতে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃষক পর্যায়ে গুণগত মানসম্পন্ন বীজের সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং সে সঙ্গে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্যে বীজ পাবেন। আলু বীজের উপপরিচালক নির্ম্যাল্য কুমার জানান, দেশে আলু বীজের চাহিদা ছয় লাখ টনের বেশি। বিএডিসি মাত্র ২৫ হাজার টন সরবরাহ করে থাকে। রংপুর জেলার উপপরিচালক স ম আশরাফ আলী বলেন, এ বছর  জেলায় আলু বীজের চাহিদা ৭৮ হাজার টনের বিপরীতে মাত্র ৮০০ টন বীজ বিএডিসি থেকে পাওয়া গেছে।

কৃষকদের নানামুখী সমস্যার ব্যাপারে উত্তরাঞ্চলীয় কৃষি পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বীজ সংকটের কারণে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল বীজ, সার, কীটনাশক বাজারজাত করে কৃষকদের সর্বনাশ করছে। ভেজাল বীজ চারা গজায় না। অনেক সময় এক জাতের বীজের ব্যাগ কেটে অন্য জাতের স্টিকার লাগিয়ে বাজারজাত করছে। ফলে কৃষকরা প্রতারিত হচ্ছেন।