সারা বাংলা

রংপুরের শ্যামাসুন্দরী খাল ঐতিহ্য হারিয়ে এখন ভাগাড়

নুর আলম, রংপুর: রংপুরের শ্যামাসুন্দরী খাল এখন ঐতিহ্য হারিয়ে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খালপাড়ের বাসিন্দারা সব ময়লা ফেলছেন খালে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে খালটি ড্রেজিং না করায় বিষাক্ত পানির দুর্গন্ধে হাঁপিয়ে উঠেছে নগরবাসী। এদিকে দিনের পর দিন দখলবাজদের কবলে পড়ে খালটি সরু হয়ে যাচ্ছে।
রংপুর মহানগরীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া প্রায় ১২৯ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী খাল শ্যামাসুন্দরী। রংপুরের উত্তর পশ্চিমের কেল্লাবন্দ ঘাঘট থেকে শুরু হয়ে নগরীর বুক চিরে মাহিগঞ্জ পেরিয়ে খোকসা এলাকায় ঘাঘট নদীতে গিয়ে মিশেছে। ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং স্থান ভেদে ৪০ থেকে ১২০ ফুট প্রশস্ত এ খাল। রংপুর পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি শ্যামাসুন্দরীতে।
বর্তমান শ্যামাসুন্দরীর বুকে ভাসছে শুধুই নাগরিকদের বাসা-বাড়ির আবর্জনা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রাকৃতিকভাবে গজিয়ে ওঠা কচুরীপানা, কচুগাছসহ ঝোপজঙ্গল। দীর্ঘদিন থেকে ময়লা অপসারণসহ খালটি ড্রেজিং না করায় বিষাক্ত পানির দুর্গন্ধে হাঁপিয়ে উঠেছে নগরবাসী। এদিকে দিনের পর দিন দখলবাজদের কবলে পড়ে খালটি সরু হয়ে যাচ্ছে।
শ্যামাসুন্দরী খালে অবলীলায় ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। যেন নগরবাসীর জন্য এ জায়গাটি ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান। ময়লা-আবর্জনার উৎকট গন্ধে শ্যামাসুন্দরীর পাড় দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রংপুর সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীর শাকিল মিয়া জানান, শ্যামাসুন্দরী খালের দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা যায় না। খাল পাড়ের বাসিন্দা মানিক মিয়া জানান, তারা চলাফেরা করতে পারেন না, পানির খুব দুর্গন্ধ। বর্ষার সময় খাল পানিতে ভর্তি হয়ে যায়। দুর্গন্ধে মাঝে মাঝে বাড়িতে থাকাই দুষ্কর হয়ে যায়। খালের ময়লাগুলো যদি নিয়মিত পরিষ্কার করা হতো তাহলে খালের পানিপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে দুর্গন্ধ ছড়াতো না। আগে এ খালে মাছ ধরতেন তিনি আর এখন মাছ তো দূরের কথা পোকামাকড়ও নেই। এখন বর্ষার সময় অল্পতেই পানিতে ভরে যায়। বাসায় খালের নোংরা পানি ঢুকে পড়ে। এ সময় বাচ্চাদের নিয়ে অনেক সমস্যা হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আলম বেঞ্জু জানান, খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পানির গতিপথে বাধা সৃষ্টিসহ ভরাট করা মোটেও ঠিক নয়। তিনি খাল পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, খালের খনন কাজ পেয়েছিল বাবু এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি কাজ না করায় তার জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দরপত্র হলে এর খনন কাজ শুরু হবে।
এ ব্যাপারে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, ড্রেজার মেশিন দিয়ে খালটি খনন করা হবে। যারা খালের জমি দখল করেছেন তাদের উচ্ছেদ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনীকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তারাই এটা করুক। যেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলানোর নির্ধারিত জায়গা সেখানে না ফেলে শ্যামাসুন্দরী খালে ফেলছি। এখন সমস্ত নর্দমার গিয়ে মিশেছে শ্যামাসুন্দরী খালে। এ শ্যামাসুন্দরীর ঐতিহ্য যদি না থাকে সে ক্ষেত্রে ড্রেনের ব্যবস্থা কীভাবে হবে। শ্যামাসুন্দরী খালকে একটা স্থায়ী খালে রূপান্তর করা ছাড়া আমাদের সামনে বিকল্প কোনো পথ নাই।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..