সম্পাদকীয়

রকেট সার্ভিসটি যেন বোঝা না হয়

নদীমাতৃক বাংলাদেশে রয়েছে ছোট-বড় অনেক নদী। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শহর-বন্দর। এসব শহর-বন্দর ঘিরে প্রসারিত হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। স্বাধীনতার আগে দেশে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল নদীপথ। এ মাধ্যমে এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে নৌকা, স্টিমার বা জাহাজে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন হতো। বিশেষ করে, বঙ্গবন্ধু সেতু হওয়ার আগপর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল নদীপথ। কালের পরিক্রমায় স্থলপথে যোগাযোগ সহজ হয়ে উঠছে। এখন ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চল অর্থাৎ পদ্মা সেতুর অপর পাশ ছাড়া দেশের সব জায়গায় সড়কপথে সহজে যাতায়াত করা যায়। সড়কপথে নৌপথের চেয়ে সময়ও লাগে কম।

রোববার শেয়ার বিজের ‘পাঁচ বছর পর রকেট সার্ভিস চালু খুলনা-ঢাকা নৌরুটে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, স্টিমারটি চালু হওয়ায় ওই অঞ্চলের মানুষ আনন্দিত। তারা এখন সহজেই ঢাকা-খুলনা নৌরুটে চলাচল করতে পারবে। সঠিকভাবে নির্মিত বলে এ ধরনের

স্টিমারের নদীতে ডোবার শঙ্কাও নেই, যদি ভয়াবহ কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে না পড়ে।

উল্লেখ্য, পাঁচ বছর আগে এ স্টিমার সার্ভিস ঢাকা-খুলনা পথে চালু ছিল। কিন্তু নাব্য সংকটে এতদিন বন্ধ ছিল সার্ভিসটি। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আবার তা চালু হলো। বাংলাদেশে এ ধরনের

ভারী যান নৌপথে চলাচলে সমস্যা লেগেই থাকে। এ রুটে আবার নাব্য সংকট হবে না, তার নিশ্চয়তা কী? ড্রেজ করেও অনেক সময় এ সংকট মোকাবিলা করা যায় না। ফের পলি জমে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে।

রকেট সার্ভিস চালু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা এখন কম খরচে যাতায়াত করতে পারবেন। তবে পদ্মা সেতু চালু হলে সেক্ষেত্রে যাত্রীসংখ্যা কেমন হবে, সেটা নিয়ে সংশয় রয়েই গেলো। সেতু চালু হলে ওই অঞ্চলের সিংহভাগ যাত্রী সময় বাঁচানোর জন্য সড়কপথে যেতে চাইবেন। পদ্মা সেতুতে কী পরিমাণ টোল বসানো হবে, তার ওপরও নির্ভর করবে এ পথে যাতায়াত। যদি বেশি টোল ধরা হয়, সেক্ষেত্রে অনেক যাত্রী নৌপথে যেতে আগ্রহী হবেন হয়তো। স্টিমারে যেতে সড়কপথের চেয়ে বেশি সময় লাগে। সেক্ষেত্রে যাত্রী কমে যাওয়ারই কথা।

সরকার যদি সাধারণ যাত্রী পরিবহনের বদলে পর্যটকদের জন্য স্টিমারটি ব্যবহার করে, তাহলে সেটা ইতিবাচক হতে পারে। যেসব পর্যটক সুন্দরবন দেখতে যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য দীর্ঘ সময়ের যাত্রাও আনন্দের হবে। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে স্টিমারটি। সার্ভিসটি লাভজনক না হয়ে লোকসানি হয়ে পড়লে তা সংস্থাটির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এ স্টিমার সার্ভিসসহ অন্য সরকারি ব্যবসাগুলো ক্রমে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত কি না, সেটাও এ সুযোগে ভাবা যেতে পারে। সিংহভাগ সরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লোকসানে রয়েছে বলে জানা যায়। জনগণের ট্যাক্সের টাকা সরকার লোকসানি খাতে খরচ অব্যাহত রাখবে না, এটাই কাম্য।

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..