Print Date & Time : 23 June 2021 Wednesday 6:11 pm

রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা ও প্রতিকার

প্রকাশ: May 5, 2021 সময়- 12:25 am

মহামারি কভিডে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিছুদিন আগেও নিউমোনিয়াকে দায়ী বলে ভাবা হচ্ছিল। নিশ্চিত হতে গত বছরের মাঝামাঝি ইতালি কিছু পোস্টমর্টেমের উদ্যোগ নেয়। যার রিপোর্টে দেখা যায়, শুধু নিউমোনিয়া নয়, বরং একটা বড় অংশের রোগীর মৃত্যুর কারণ ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধা।

কেবল নিউমোনিয়া নয়, বরং রোগীর ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে থাকায় অনেক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ইতালিতে বিভিন্ন রোগীর টেস্ট ও রিপোর্টে দেখা যায়, প্রায় ৪০ শতাংশ করোনা-আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেশি। তখনই বোঝা গেল, করোনার মেকানিজমই হলো রক্ত জমাট বেঁধে ফেলা। নভেল করোনাভাইরাসের (এনকভ) অনেকগুলো রূপ দেখা গেলেও, রক্ত জমাট করে ফেলা একটি স্বাভাবিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কভিডের ভ্যাকসিন নিলে রক্ত জমাট বাঁধে, এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই। খাদ্যাভ্যাস, অলসতা, শরীরে মোটাভাব এবং অন্যান্য অনেক কারণে রক্ত জমার প্রবণতা এমনিতেই বেশি থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ শরীর এবং ভ্যাকসিন গ্রহণ করা শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতার খুব একটা পার্থক্য নেই।

রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ দেখে আগে থেকেই অনুমান করা যায়, কার রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। বেশি বয়সী এবং কিডনি ও হার্টের সমস্যা রয়েছে, ক্যানসারের ওষুধ খান বা খেতেন, যেসব নারী সন্তানসম্ভবা এবং নিয়মিত পিল গ্রহণ করেন, তারা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিতে থাকেন। জ্বর এলেও ধরে নেয়া যায়, শরীরে কোনো একটি ইনফেকশন প্রতিরোধের প্রয়োজন হয়েছে। শতভাগ নিশ্চিত হতে ডিডাইমার এবং ইন্টারলিউকেন সিক্স টেস্ট করে নিশ্চিত হওয়া যায়, শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি আছে কি নেই।

ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যই হলো তার মিউটেশন হবে।

রক্ত জমাট না বাঁধার জন্য অনেক এপিএস রোগী নিয়মিত ওষুধ খান, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নারীদের পিরিয়ডের সময় অনেক রক্ত বের হয়ে যায়। সারাবছরই এদের রক্তস্বল্পতা থাকে এবং রক্ত নিতেও হয়। তারা এই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এড়াতে ঋতুস্রাবের কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা আগে ওষুধ বন্ধ রাখতে পারেন।

যাদের কভিড-রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে বা হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় এসেছেন, তাদেরও নিয়মিত মাস্ক পরতে হবে, প্রেসক্রাইবড মেডিসিন নিতে হবে এবং নিয়মিত ডাক্তারের সঙ্গে ফলোআপ করতে হবে। সবাই সচেতন হলে এবং যথারীতি মাস্ক পরলে কভিডের যে কোনো ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব।

এসকেএফ নিবেদিত ‘হৃদয়ের সুরক্ষা’ অনুষ্ঠানের আলোচনা অবলম্বনে