প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হোক বাণিজ্যমেলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গতকাল ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার (ডিআইটিএফ) ২৬তম আসর উদ্বোধন করেন। রাজধানীর উপকণ্ঠে পূর্বাচল নতুন শহরে নবনির্মিত বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে মাসব্যাপী চলবে এ মেলা। মেলা উপলক্ষে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানায়, এবার মেলায় ২৩টি প্যাভিলিয়ন, ২৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন, ১৬২টি স্টল এবং ১৫টি ফুড স্টল থাকবে। স্টলসংখ্যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় অর্ধেক। মেলায় মাত্র বিদেশি স্টল মাত্র ১১টি। সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কভিডের কারণে অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান মেলায় আসেনি।

দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ডিআইটিএফ আয়োজন করা হচ্ছে। এবারই প্রথমবারের মতো স্থায়ী কমপ্লেক্সে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এখানেই ডিআইটিএফসহ সব ধরনের মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

রপ্তানি বাড়াতে ডিআইটিএফের বড় ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ অনেক কম। নতুন ভেন্যুতে ক্রেতা-দর্শনার্থী যাবেন না। অনেক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানও মেলায় যাবে না অংশ নিচ্ছে না। এটি স্বাভাবিক ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ তুলে আনার কথা ভাববেন। সে বিবেচনায় নতুন ভেন্যুতে মেলা জমজমাট হবে না। কভিডের অভিঘাত তো আছেই। তবে যেহেতু পূর্বাচলেই স্থায়ীভাবে মেলা অনুষ্ঠিত হবে, তাই ব্যবসায়ীদের আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। কেনাকাটার জন্য মেলায় অংশ নেয় না কেউ। কোনো পণ্য কতটা টেকসই, সাশ্রয়ী; ক্রেতারা মেলায় এসে যাছাই ও তুলনা করার সুযোগ পান। মেলা বাজার সৃষ্টির মাধ্যম। পণ্য ভালো হলে গ্রাহক আকৃষ্ট হবেই। গ্রাহকরাই কোনো পণ্যের বড় বিপণনকারী। পণ্য ভালো গ্রাহকই পণ্যের প্রশংসা করেন, আত্মীয়-সহকর্মী পরিচিতজনের কাছে পণ্যের গুণগান বলে বেড়ান। তাই বলা যায়, বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগের কর্মীদের চেয়ে ক্রেতারাই বড় প্রচারক। সব বিবেচনায় মেলার অবদান কম নয়। মেলার নতুন ভেন্যু রাজধানীর এক প্রান্তে। এটির প্রতি সর্বসাধারণের আগ্রহ বাড়াতে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে জনবান্ধব করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধা, নিরাপত্তা, গাড়ি পার্কিং এবং খাদ্যপণ্যের দান যৌক্তিক থাকলে মেলায় জনসমাগম বাড়বে। এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। ক্রেতা-দর্শনার্থী উপকৃত হলে তারা অভিজ্ঞতার বিষয় ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন। এতে সেবা-পণ্যের প্রচার বাড়ে। তখন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানমালিকরা পণ্যের মেলায় অংশ নেয়ার কথা ভাববেন। আমরা মনে করি, বাণিজ্যমেলার নবনির্মিত স্থায়ী ভেন্যুতে এবারের মেলা আয়োজন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি হবে। রপ্তানি বাড়াতে ডিআইটিএফ হবে বড় অনুঘটক। এ লক্ষ্যে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।