প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রপ্তানি লক্ষ্য অর্জনে যথাযথ উদ্যোগ কাম্য

২০২৪ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের জন্য নতুন রপ্তানি নীতি প্রণয়ন করেছে সরকার। পূর্ববর্তী রপ্তানি নীতির মেয়াদ শেষ হয় ২০২১ সালে। সেই নীতিতে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬০ বিলিয়ন ডলার, যদিও বাংলাদেশ সে লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশ পিছিয়ে ছিল এ সময়। এ পিছিয়ে থাকার পেছনে চলমান কভিড অতিমারিও বেশ ভূমিকা রেখেছে। তবে এখনও কভিডের প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানি নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কভিডের প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় নেয়া উচিত বলে মনে করি। যাহোক, ঘোষিত রপ্তানি নীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব মহলের যুগপৎ উদ্যোগ একান্ত কাম্য বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘রপ্তানি আয় ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেয়ার লক্ষ্য’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২৪ সাল নাগাদ দেশের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ বিলিয়ন ডলার, যদিও ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত দেশের মোট রপ্তানি আয় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মতো। আর চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ বিলিয়ন ডলার। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি নির্ভরশীল তৈরি পোশাক খাতের ওপর। একটি খাতের ওপর অতিনির্ভরশীলতা বাংলাদেশের জন্য শক্তি নাকি দুর্বলতা, তা বিশ্লেষণ হওয়া উচিত বলে মনে করি। আর রপ্তানি আয়ে বেশি অবদান রাখার কারণে তৈরি পোশাক খাতে সরকার প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাও বেশি মাত্রায় বিতরণ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে অন্য খাতগুলো যাতে রপ্তানিতে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তাছাড়া যেকোনো দেশের রপ্তানি আয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জায়ান্ট কোম্পানিগুলো বড় ধরনের অবদান রাখে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, চীনের রপ্তানি বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের টেক জায়ান্টগুলোর বেশ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশেও যাতে এ ধরনের বড় প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ দক্ষ জনবল তৈরিসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। রপ্তানিতে বড় ধরনের অবদান রাখাতে পারেÑএমন সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আবশ্যক বলে মনে করি।

এ কথা অনস্বীকার্য যে, বর্তমানে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকাল অতিক্রম করছে বিশ্ব। এ বিপ্লবে রোবোটিক্সসহ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এতে করে কর্মসংস্থানও হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং অন্যদিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগানোর যে চ্যালেঞ্জ, তা মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত প্রয়াস অপরিহার্য। সংশ্লিষ্ট মহল এ বিষয়ে তৎপর হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।