মত-বিশ্লেষণ

রফতানি আয় বৃদ্ধির জন্য জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

আবুল কাসেম হায়দার :আমাদের প্রধান রফতানি খাত হচ্ছে তৈরি পোশাকশিল্প খাত। অন্য কোনো খাত রফতানির ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকশিল্পের বিকল্প হতে পারেনি। তাই রফতানির ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভর করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। একটি মাত্র খাতনির্ভর রফতানি নিয়ে দেশ বড় রকমের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। সরকার ও শিল্পোদ্যোক্তারা নানাভাবে চেষ্টা করছেন। কিন্তু পরিস্থিতি এখনও আমাদের অনুকূলে আসেনি। হয়তো কয়েক বছরের মধ্যে তৈরি পোশাকশিল্প ছাড়াও আরও দু-একটি খাত রফতানিতে শীর্ষ পর্যায়ে চলে আসবে। কিন্তু গত তিন মাসে দেশের রফতানি কমেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পের রফতানি আয় কমে যাওয়া দেশের জন্য কঠিন অবস্থা।

ভাটার টান পড়েছে দেশের রফতানি আয়ে। গত তিন মাসে সার্বিকভাবে আয় কমেছে তিন শতাংশের মতো। সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হলোÑতৈরি পোশাক, চামড়া, পাট, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিপণ্য, হোম টেক্সটাইলসহ এসব বড় কোনো খাতই রফতানিতে ভালো করতে পারছে না। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রফতানি উন্নয়ন আয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই-সেপ্টেম্বর পণ্য রফতানিতে ৯৬৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের আয় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ শতাংশ কম।

যদিও বছরটি শুরু হয়েছিল বেশ ভালোভাবেই। প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইয়ে রফতানি আয় বেড়েছিল আট শতাংশের মতো। পরের মাসে তা ১১ শতাংশের মতো কমে যায়। এর একটি কারণ হিসেবে ঈদুল আজহার ছুটিকে সামনে আনা হয়েছিল। কিন্তু পরের মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বরেও দেখা গেল, রফতানি আয় সাত শতাংশের বেশি কমেছে। ফলে তিন মাস মিলিয়ে মোট আয় আগের চেয়ে কম।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানি আয়ে সাড়ে ১০ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়। ওই বছর আয় হয়েছিল মোট চার হাজার ৫৪ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের জন্য সরকার চার হাজার ৫৫০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ঠিক করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১২ শতাংশের মতো বেশি। 

রফতানিকারকরা বলেছেন, পোশাক খাতে কার্যাদেশ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত কম। ফলে এ খাতে আরও কয়েক মাস রফতানি আয় কম থাকবে বলে আশঙ্কা তাদের। অন্যদিকে চামড়া, পাট ও হিমায়িত খাদ্য দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে ভুগছে। কৃষি খাত ভালো করছিল, সেখানেও রফতানি কমতির দিকে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, তিন মাসের পরিসংখ্যান দিয়ে পুরো অবস্থা বোঝা যাবে না। তবে চিন্তার কারণ আছে। বিশ্বব্যাপী মোট দেশজ উৎপাদনের ৯ (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্যে গতি কমছে। এতে বড় বাজারে চাহিদা কমে গেলে বাংলাদেশের মতো রফতানিকারক দেশের ওপর প্রভাব পড়বে। এছাড়া পোশাক খাতে রফতানি কমার পেছনে ঈদুল আজহার ছুটির কিছুটা প্রভাব সেপ্টেম্বরেও পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রফতানি আয় বাড়াতে কয়েকটি পরামর্শ দেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যবান ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে। তবে ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের মতো দ্রুত টাকার মূল্যবান কমাতে গেলে সেটা মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি চামড়ার মতো বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা সমস্যাগুলোর সমাধান, ভারত ও চীনের মতো বাজারে রফতানি বাড়াতে জোর দেওয়া এবং রফতানিমুখী বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন। পণ্য রফতানির সিংগভাগ (গত অর্থবছরে ৮৪ শতাংশ) আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। সেই খাতের আয়ে ভাটা পড়ায় সামগ্রিকভাবে রফতানিতে আয় হয়েছে ৮০৬ কোটি ডলারের মতো, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এক দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। ওভেন ও নিট, পোশাকের দুই উপখাতেই রফতানি আয় পড়তি। তিস মাসে নিট আয় হয়েছে ৪১৭ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ কম। ওভেনে আয় কমেছে আড়াই শতাংশের মতো। এ খাতে তিন মাসে রফতানি হয়েছে ৩৮৯ কোটি ডলারের মতো।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ রফতানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। তিন মাসে চামড়া ও চামড়াপণ্য রফতানিতে আয় হয়েছে ২৫ কোটি ৪৪ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় পাঁচ শতাংশ কম। তৃতীয় শীর্ষ খাত পাট ও পাটপণ্যে রফতানি আয় হয়েছে ২২ কোটি ডলারের কিছু বেশি। এ ক্ষেত্রে আয় অবশ্য সামান্য বেড়েছে। কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রফতানিতে আয় হয়েছে ২৬ কোটি ২৬ লাখ ডলার। এ ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের মতো। হিমায়িত খাদ্য রফতানিতে আয় কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। তিন মাসে এক কোটি পাঁচ লাখ ডলারের হিমায়িত খাদ্য রফতানি হয়েছে। মাঝারি ও ছোট খাতের মধ্যে হোম টেক্সটাইল, সিরামিক, আসবাব, পেট্রোলিয়াম উপজাতসহ আরও কিছু খাতে রফতানি আয় কমছে।

চামড়া খাতের মূল সমস্যা পরিবেশ দূষণ। রফতানিকারকরা বলেছেন, চীনারা মার্কিন শুল্কের চাপে পড়ে বাংলাদেশি চামড়া নেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার ধরতে পারছে না ট্যানারির পরিবেশ দূষণের কারণে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী চামড়াজাতপণ্যের বাজারেও চাহিদা কমছে। পাটক্ষেতের বড় বাজার ভারতে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক দিয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। বিশ্বব্যাপীরও চাহিদা কম। গত বছর পাট খাতে রফতানি আয় কমেছিল ২২ শতাংশের মতো। এ বছর যে ভালো যাবে, সে আশাও করা যাচ্ছে না। কারণ পাটের সনাতনী পণ্যগুলোর ব্যবহার কমছে। বড় বাজারগুলোতে অর্থনৈতিক অবস্থাও আশাব্যঞ্জক নয়। ভালো করা খাতের মধ্যে রয়েছে প্রকৌশল পণ্য। এ খাতে মোট আয় ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশের মতো বেশি। ওষুধ রফতানিতেও ভালো করছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। তিন মাসে এ খাতে আয় হয়েছে চার কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৭ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত বছর ৫৪০ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করে বাংলাদেশ। তখন প্রবৃদ্ধি ছিল ছয় দশমিক ৬৫ শতাংশ। আট মাসের ব্যবধানে সেই দেশে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ১১ দশমিক ৮১ শতাংশে উঠেছে। তাতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রথম আট মাসে রফতানি হয়েছে ৪০৮ কোটি ডলারের পোশাক। ফলে বড় এই বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক রফতানি ঊর্ধ্বমুখী আছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপোলো (অটেক্সা) দেওয়া পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তাতে দেখা গেছে, আলোচ্য আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাঁচ হাজার ৭৩০ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে পাঁচ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোক্তারা যত পোশাক আমদানি করেন, তার ছয় দশমিক ৭৮ শতাংশ নেন বাংলাদেশ থেকে। সেই হিসেবে বাজারটিতে বাংলাদেশ তৃতীয় সর্বোচ্চ তৈরি পোশাক রফতানিকারক। অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১৩৯ কোটি বর্গমিটার কাপড়ের সমপরিমাণ তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে, যার দাম ৪০৮ কোটি ডলার। ২০১৩ সালে সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর  যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানি কমে যায়। ২০১৭ সালে ৫০৬ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হলেও তা ছিল ২০১৬ সালের চেয়ে সাড়ে চার শতাংশ কম। দীর্ঘ ১৫ মাস পর গত বছরের জানুয়ারিতে এই বাজারে বাংলাদেশের রফতানি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। পোশাক রফতানিকারকরা জানান, গত বছর বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি বাড়তি শুল্ক থেকে রেহাই পেতে বেশি ক্রয়াদেশ নিয়ে বাংলাদেশের কারখানাগুলোয় আসতে শুরু করে তারা। সেই জন্যই মূলত বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের একটি অংশ অত্যধিক কম দাম অফার করায় কাক্সিক্ষত মাত্রায় লাভবান হচ্ছেন না দেশের উদ্যোক্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের পোশাক রফতানি বাড়ছে। তবে আমরা যতটা আশা করেছিলাম, ততটা নয়। দেশটির ক্রেতারা চীনের বিষয়ে তাদের সরকারের নীতি পরিবর্তন হবে কি হবে না, তা নিয়ে দোটানায় আছেন। ফলে তারা এখনও মন খুলে ক্রয়াদেশ দিচ্ছেন না। আবার পোশাকের দাম নিয়েও আমাদের সঙ্গে অনেক বেশি দরকষাকষি করছে।

অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এক হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে চীন। তাদের এই রফতানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে মাত্র এক দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি। এরপরও চীন পোশাক রফতানিতে বেশ ভালোভাবেই এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পোশাক রফতানিকারক ভিয়েতনাম চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৯০৬ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে। তাদের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। পরের অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটি ৩০০ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে। অবশ্য গত বছরের একই সময়ের চেয়ে তাদের রফতানি কমেছে দশমিক ৩৭ শতাংশ। পঞ্চম শীর্ষ ২৯৪ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করেছে। এই রফতানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আট দশমিক ১৯ শতাংশ বেশি।

পোশাক খাতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যাদেশ কম। এ কারণে আরও কয়েক মাস রফতানি আয় কম থাকবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এখনকার পরিস্থিতিতে টেকসইভাবে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধির ধরে রাখা সহজ কাজ নয়। বৈশ্বিক পোশাকের ক্রয়াদেশের একটা বড় ভাগ ভিয়েতনাম পাচ্ছে। এছাড়া ক্রয়াদেশ সরে ভারত ও পাকিস্তানে যাচ্ছে। এসব দেশ ক্রেতাদের টানতে ভর্তুকিসহ নানা সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশের পোশাক খাত সম্পর্কে একটা ধারণা হলো, আমরা ভালো করছি। রফতানি আয় বাড়ছে। কিন্তু চার বছরের গড় প্রবৃদ্ধি দেখলে বোঝা যাবে, এখনকার প্রবৃদ্ধি কমতির দিকে। আমি মনে করি, যেহেতু রফতানিতে অন্য কোনো খাত বড় দায়িত্ব নিতে পারছে না, সুতরাং পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে ও এগিয়ে যেতে সহায়তা দিতে হবে। সম্প্রতি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির পর অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এখন পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে যে, ভবিষ্যতে আমরা কী করব, কোন পথে যাব। নতুন কৌশল নেওয়া এখন একমাত্র উত্তর। নীতিনির্ধারকদের উচিত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

নতুন কৌশল নেওয়া  জরুরি

এক. প্রতিবেশী দেশ ভারত, ভিয়েতনাম, চীনের মোকাবিলায় রফতানিতে আমাদের কৌশলগত নানা পদক্ষেপ চিন্তা করা প্রয়োজন। ভারত তাদের রফতানি বৃদ্ধির জন্য রফতানিকারকদের আর্থিক সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে তাদের নিজস্ব সুতা ও অন্যান্য অ্যাকসেসরিজ থাকায় রফতানিকারকরা সুবিধা পাচ্ছেন। আমরা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত। রফতানি আদেশ কার্যকর করার জন্য অগ্রিম কর কর্তন দশমিক ২৫ শতাংশে দ্রুত নামিয়ে আনা প্রয়োজন। তৈরি পোশাকশিল্পসহ বস্ত্র খাতের সব উপখাতকে এই সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।

দুই. গত কয়েক বছর ধরে দ্রুত বেতন ও গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বস্ত্র খাতের সব উপখাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য কম পক্ষে ৪০ শতাংশ কমানো প্রয়োজন এবং আগামীতে কোনোভাবে রফতানি শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা উচিত হবে না।

তিন. বর্তমান অর্থবছরে শিল্প খাতে ব্যাপক ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। অধিকাংশ খাতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। তাতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। বস্ত্র খাতের তিনটি উপখাতে জরুরি প্রয়োজনে ভ্যাট কর্তন বন্ধ করা প্রয়োজন। যার ফলে পণ্যে উৎপাদন খরচ কমবে। তাতে আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারব।

চার. ব্যাপক সুদের হার বর্তমানে আমাদের ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে। ১২ শতাংশের কমে কোনো ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে না। কিন্তু সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ৯ শতাংশ সুদের হার করতে। বাস্তবে কোনো বেসরকারি ব্যাংক তা কার্যকর করেনি। ব্যাংকগুলো ১৮ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করছে। উচ্চহারে সুদের চাপে তৈরি পোশাক তথা বস্ত্র খাত কঠিন সময় অতিবাহিত করছে। সুদের হার ৯ শতাংশের নিচে দ্রুত আনা প্রয়োজন।

পাঁচ. কিছুদিন আগ পর্যন্ত আমরা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো থেকে ৫০ শতাংশ হারে কমিশন পেয়ে ইন্স্যুরেন্স করতে পারতাম। এখন তা কমিয়ে আনা হয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশে। এখন আমাদের খরচ বেড়েছে এই খাতে ৩৫ শতাংশ। সব ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ও সরকার এক যোগ হয়ে এ কাজটি করেছেন। তাদের রফতানিমুখী শিল্পে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ৫০ শতাংশ হারে আগে দেওয়া কমিশন প্রথা চালু করা প্রয়োজন। উল্লিখিত উদ্যোগগুলো দেশের রফতানি স্বার্থে দ্রুত কার্যকর করার পদক্ষেপ খুবই জরুরি।

সাবেক সহসভাপতি এফবিসিসিআই, বিটিএমইএ বিজিএমইএ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও  ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড

সর্বশেষ..