মত-বিশ্লেষণ

রফতানি বাড়তে পণ্য বৈচিত্র্য ও বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দিতে হবে

মো. আবদুল জলিল: শিল্প খাতের উন্নয়ন একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বিবিএসের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ছিল ৩৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। একই সঙ্গে দেশের সার্বিক শিল্প খাত, যথা উৎপাদন শিল্প, জ্বালানি শিল্প, কৃষি ও বনজ শিল্প, খনিজ সম্পদ ও প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, পর্যটন ও সেবা শিল্প, নির্মাণ শিল্প, তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পসহ উপযোগী সব ধরনের শিল্পের পরিবেশবান্ধব বিকাশ ও উন্নয়নকল্পে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রয়েছে। দেশের শিল্পায়নের গতিকে বেগবান করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘শিল্পনীতি ২০১৬’ ঘোষণা করে। এ নীতি নারীর উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাসহ নারীকে শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার মূলধারায় নিয়ে আসা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে ভূমিকা পালন করবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারে উৎসাহ প্রদানকল্পে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে শিল্পঋণ বিতরণ ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। ফলে শিল্প খাতের ঋণ বিতরণ ও আদায় ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিল্প খাতের দ্রুত বিকাশের জন্য ইপিজেডগুলো দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে দেশের শিল্প খাত বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।
শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে শিল্প খাতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত বরাদ্দ। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার বাংলাদেশের প্রথম বাজেট পেশ করে। এ বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসে বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকায়। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের প্রথম বাজেট।
‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট জনগণের চেতনা ও চাহিদাকে স্পর্শ করেছে। এতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বাস্তবে রূপায়ণের লক্ষ্য রয়েছে। সগৌরবে জাতির জনকের জম্নশতবার্ষিকী উদ্যাপনের অভিলাষ নিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি বাঙালি জাতির ধারাবাহিক আর্থসামাজিক অগ্রগতির প্রতিফলন।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, যথাযথ সুরক্ষার মাধ্যমে বিদ্যমান শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার, রফতানিমুখী শিল্পের বহুমুখী প্রসার এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়াস লক্ষণীয়। শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তিন হাজার ৮৯১ কোটি টাকা। এতে মূসকমুক্ত টার্নওভারের সীমা ৫০ লাখ টাকা, টার্নওভার করের ঊর্ধ্বসীমা ৮০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন কোটি টাকা এবং বিপুলসংখ্যক আইটেম মূসকের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
শিল্পায়নের জন্য ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন অপরিহার্য শর্ত। বর্তমান বাজেটে এ বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে। এতে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হয়েছে। ১৯টি অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করলে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ তালিকায় গভীর সমুদ্রবন্দর, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, গ্যাস পাইপলাইন, হাইটেক পার্ক, আইসিটি ভিলেজ ও সফ্টওয়্যার টেকনোলজি জোন, তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক, বড় পানি শোধনাগার ও পানি সরবরাহের পাইপলাইন, এলএনজি টার্মিনাল ও ট্রান্সমিশন লাইন, মোবাইল ফোনের টাওয়ার অথবা টাওয়ার শেয়ারিং অবকাঠামো, মনোরেল, র‌্যাপিড ট্রানজিট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সমুদ্র ও নদীবন্দর, সড়ক ও সেতু, ভূগর্ভস্থ রেল ও বর্জ্য শোধনাগারের মতো শিল্পসংশ্লিষ্ট খাতগুলো রয়েছে।
পাশাপাশি বাজেটে অঞ্চল ভিত্তিতে ২৫টি শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ওষুধ, কৃষি যন্ত্রপাতি, স্বয়ংক্রিয় মেশিনে ইট উৎপাদন, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক সামগ্রীর প্রাথমিক যন্ত্রাংশ, বাইসাইকেল, বায়োফার্টিলাইজার, বায়োটেকনোলজিভিত্তিক কৃষিপণ্য, বয়লার ও এর যন্ত্রাংশ, কমপ্রেশার, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, ফার্নিচার, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পোকামাকড় দমনের কীটনাশক, এলইডি টিভি, ফল ও সবজি প্রক্রিয়াকরণ, মোবাইল ফোন, পেট্রোকেমিক্যাল, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং, টেক্সটাইল মেশিনারি, খেলনা ও টায়ার উৎপাদন প্রভৃতি খাত উল্লেখযোগ্য।
চলতি বাজেটে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক শিল্প সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ নীতির আলোকে ঢাকা বিভাগের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা; চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা ছাড়া অন্য জেলায় এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের বাইরে শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তারা পাঁচ বছরের কর অবকাশ সুবিধা পাবেন। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরে এবং রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে ১০ বছরের কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
বাজেটে দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, শিল্প খাতে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রদান, রফতানিমুখী শিল্প স্থাপন, পিছিয়ে পড়া শিল্পে প্রণোদনাসহ স্থানীয় শিল্প বিকাশের মাধ্যমে শিল্পবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান সৃজনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে সরকার স্থানীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য শর্তসাপেক্ষে যে রেয়াতি সুবিধা দিয়ে আসছিল, নতুন বাজেটে তা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও এর যন্ত্রাংশ উৎপাদনে ব্যবহার করা তিনটি উপকরণের শুল্ক সুবিধা যৌক্তিকীকরণ করা হয়েছে।
বাজেটে দেশে তৈরি লিফ্ট, রেফ্রিজারেটর, কমপ্রেশার, এয়ারকন্ডিশনার, মোটর, মোল্ড ও পাদুকা শিল্পের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব শিল্পে ব্যবহার করা বেশ কিছু উপকরণের ওপর আমদানি শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব খাতে গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো টেকসই হবে। এগুলোর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়বে।
আইসিটি খাতে বিদ্যমান সুবিধাও চলতি বাজেটে অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সেলুলার ফোন উৎপাদনে ব্যবহারের জন্য অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কহার কমানো হয়েছে। এছাড়া দেশেই স্মার্টফোন ও ফিচার ফোন উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য এ ধরনের ফোন আমদানিতে বিদ্যমান ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরও বাড়ানো হয়েছে। এতে দেশীয় রাইস ব্র্যান অয়েল শিল্প প্রসারের উদ্যোগ রয়েছে। রাইস ব্র্যান অয়েল মিলে ব্যবহারের জন্য প্রধান কাঁচামাল ধানের কুঁড়া সহজলভ্য করতে এর রফতানি শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ধানের কুঁড়া রফতানির প্রবণতা কমবে এবং স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্য তেল উৎপাদনে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
বাজেটে রফতানি খাতে প্রণোদনা প্রদানে আনম্যানুফ্যাকচার্ড টোব্যাকো ও টোব্যাকো রিফিজের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ রফতানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের স্বার্থে পরিবেশবান্ধব বিল্ডিং ব্রিক্স রফতানি উৎসাহিত করতে পণ্যটির রফতানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এ দুটি শিল্প খাতে রফতানি বাড়বে বলে আশা করা যায়।
এছাড়া বাজেটে দেশীয় ডেইরি ও দুগ্ধ খামারিদের সুরক্ষায় গুঁড়োদুধের আমদানি শুল্ক হার পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবে। বাজেটে স্থানীয় চিনিশিল্পের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে চিনি আমদানিতে ‘র’ সুগারের ক্ষেত্রে প্রতি টন দুই হাজার টাকা এবং পরিশোধিত চিনির ক্ষেত্রে চার হাজার ৫০০ টাকা স্পেসিফিক ডিউটিসহ ২০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি নির্ধারিত ছিল। নতুন বাজেটে দেশীয় চিনিশিল্পের সুরক্ষায় ‘র’ সুগার আমদানিতে স্পেসিফিক ডিউটি তিন হাজার টাকা এবং পরিশোধিত চিনি আমদানিতে ছয় হাজার টাকা করা হয়েছে। উভয় ধরনের চিনি আমদানির ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ডিউটি বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে দেশীয় চিনিশিল্পের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
বাজেটে ওষুধশিল্পের কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক রেয়াত অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যানসারের ওষুধ তৈরিতে প্রয়োজনীয় বেশ কিছু উপকরণ আমদানির ওপর শুল্ক রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জীবনরক্ষাকারী মেডিক্যাল গ্যাস প্রস্তুতকারী শিল্পের কাঁচামালের ওপর বিদ্যমান রেগুলেটরি ডিউটি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার জন্য গধরুব (ঈড়ৎহ) ঝঃধৎপয, গধহরড়প (ঈধংংধাধ) ঝঃধৎপয, জিপসাম আমদানির ওপর রেগুলেটরি ডিউটি বৃদ্ধি এবং পার্টিক্যাল বোর্ড ও বৈদ্যুতিক গৃহস্থালি পণ্য আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কারোপ করা হয়েছে।
বাজেটে শিল্প খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যক্তি করদাতাদের আয়ের ২০ শতাংশ পর্যন্ত শিল্প খাতে বিনিয়োগ করে কর মওকুফ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালোটাকা সাদা করে শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে বিনিয়োগকারীরা এক বছরের জন্য এ সুযোগ পাবেন।
বাজেটে শিল্প খাতের পরিধি বাড়ানোর প্রয়াস রয়েছে। নতুন করে ফার্নিচার, হীরা ও মূল্যবান পাথর কাটিং শিল্পকে কর অবকাশ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। কর অবকাশ পাওয়া খাতগুলোর বছরভিত্তিক করের হারও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে নগদ প্রণোদনা এক শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া দেশীয় কাপড় ব্যবহার করে ইউরোপে পোশাক রফতানিতে বিদ্যমান দুই শতাংশ প্রণোদনাও বহাল রাখা হয়েছে।
এ বাজেট নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে উৎসাহিত করেছে। সিএসআর কার্যক্রমে শিল্প উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ জোরদারের সুযোগ তৈরি করেছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী শ্রমিক নিয়োগ দিলে পাঁচ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে দেশীয় শিল্প বিকাশের পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নেও নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসা সহজীকরণ বা ঊধংব ড়ভ উড়রহম ইঁংরহবংং-এর প্রয়াস জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নানামুখী সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোম্পানি আইন সংশোধন, ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু প্রভৃতি উল্লেখ করার মতো।
কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিভিন্ন ধরনের রেজিস্ট্রেশন ফি উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে এবং ৫০ হাজার টাকার নিচে মূলধনসম্পন্ন কোম্পানির ক্ষেত্রে তা শূন্য করা হয়েছে। বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সেবা দ্রুত ও সহজলভ্য করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ৬৪ জেলায় ওয়ানস্টপের আদলে বিনিয়োগ সেবা তদারকি সেল গঠন এবং জেলা পর্যায়ে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের ১০টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করার ব্যয় জড়িত। তাই ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই অঙ্কের মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য বাজেটে কার্যকর সংস্কার কর্মসূচি চিহ্নিত করা হয়েছে। সামগ্রিক বিবেচনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন বাংলাদেশের চলমান শিল্পায়নের ধারাকে বেগবান করবে। এটি দেশে শক্তিশালী ও সুসংহত শিল্প খাত গড়ে তুলতে ইতিবাচক অবদান রাখবে। এটি একটি শিল্প, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসাসহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়বে। পণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ধারা অব্যাহত রেখে ২০২১ সালের মধ্যে শিল্পসমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।

পিআইডি প্রবন্ধ

সর্বশেষ..