সম্পাদকীয়

রফতানি লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত উদ্যোগ নিন

কেবল উন্নয়নশীল নয়, যেকোনো দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে রফতানির বড় ভূমিকা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরাও পিছিয়ে নেই। প্রতিবছরই বাড়ছে আমাদের রফতানি।
বুধবার চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ-সংক্রান্ত বৈঠকে নতুন অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ বিলিয়ন বা পাঁচ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। গতকাল ‘রফতানির লক্ষ্য ৫৪ বিলিয়ন ডলার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে শেয়ার বিজ পাঠকরা আরও জেনেছেন, এবারের লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের চেয়ে ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪ বিলিয়ন ডলার। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব বলেছেন, রফতানির যে লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছে, তা অর্জন করা কঠিন কিছু নয়। রফতানিকারকেরা আন্তরিক হলে সহজেই এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।
গত অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মোট রফতানি আয় (পণ্য ও সেবা) ৪৬ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাঁচ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি।
সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মোট রফতানি আয় (পণ্য ও সেবা) ৪৬ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাঁচ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। রফতানি খাতে টানা প্রবৃদ্ধির জন্য আমরাও আশাবাদী।
অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে রফতানির ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব খাতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি, সেগুলোর কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রতিবছরই আমাদের রফতানি পণ্যের সংখ্যা বাড়ছে। এটি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। এ ধারা ধরে রাখতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবসায়িক জটিলতা নিরসন করতে হবে; স্থল ও সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম আধুনিকায়ন করতে হবে। রফতানির সুফল যাতে সব পক্ষ ভোগ করে, তাও নিশ্চিত করতে হবে।
রফতানিতে ব্র্যান্ড একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্বে পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় হলেও আমাদের নিজস্ব কোনো ব্র্যান্ড নেই। ফলে পোশাকের মূল্য নির্ধারণে দর কষাকষি করা যায় না। এ সমস্যা দূর করা গেলে একই পণ্যের বেশি দাম পেতে পারি আমরা।
জিডিপিতে বড় অবদান রাখলেও আমাদের রফতানি সীমাবদ্ধ কয়েকটি পণ্য ও দেশের মধ্যে। সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে পণ্য ও বাজার বাড়াতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, কর্মপরিবেশ ও মানসংক্রান্ত বিষয় প্রতিপালন, পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ, রফতানিকারকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা নিলে এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোকে অধিকতর বাণিজ্যবান্ধব করে তোলা গেলে, রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন নয়।

সর্বশেষ..