বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না

ওয়েবিনারে ব্যবসায়ীদের আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ফলে রমজানে সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা নেই। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘পবিত্র রমজান মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক ওয়েবিনার ব্যবসায়ীরা এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের পাশাপাশি অতিরিক্ত মজুদকরণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় প্রভৃতি কারণে প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসের আগে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনসাধারণের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। তিনি উল্লেখ করেন, কভিড-১৯ মহামারির ফলে গত বছরের শেষ ৯ মাসে আয় কমে যাওয়া ও কর্মচ্যুতির ফলে অধিকাংশ মানুষ ঋণ করে এবং সঞ্চয় ভেঙে জীবন নির্বাহ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে দরিদ্ররা নিদারুণ কষ্টে পড়বে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, রোজা এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয় এবং অনেক সময় পণ্যের জোগান ও চাহিদার সমন্বয় থাকে না। তিনি বলেন, পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট সচেতনভাবে কাজ করছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন সুযোগ নিতে না পারে, সে ব্যাপারে বিএসটিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি ব্যবসায়ী সমাজকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানান এবং ব্যবসায়ীদের সজাগ থাকতে বলে মতপ্রকাশ করেন।

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, এটি একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, যার মাধ্যমে জনগণকে আসন্ন রমজান মাসে সুফল দেয়া যাবে। তিনি জানান, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে ৯ সদস্যবিশিষ্ট ‘বাজার মূল্য পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ’ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা শিগগিরই তাদের কাজ শুরু করবেন এবং এর ফলে বাজার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ের রাখা সম্ভব হবে।

মুক্ত আলোচনায় ডিএনসিসি কাঁচা ও সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দীন মোহাম্মদ, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এসএম নাজের হোসেন, বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী ইনাম আহমেদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, র‌্যাব-৩ অধিনায়ক রাকিবুল হাসান, বিএসটিআইয়ের পরিচালক (প্রশাসন) তাহের জামিল, ডিএমপির এডিসি মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী মো. গোলাম মওলা এবং পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েতুল্লাহ অংশ নেন।

দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, করোনাকালে স্বাস্থ্য বিধিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যমান নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশ যথাযথ পালন করা হবে। ক্যাবের সহসভাপতি নাজের হোসেন বলেন, রমজানে ভোগ্যপণ্যের বাজার অসহনীয় হয়ে পড়ে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে বাজার তদারকি বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন। হাজী মো. গোলাম মওলা বলেন, পাইকারি পর্যায়ে করোনা পরিস্থিতিতে ভোগ্যপণ্যের মজুদের কোনো ঘাটতি নেই, শুধু ভোজ্যতেলের দাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাড়ায় সেটা স্থানীয় বাজারে বেড়েছে। পাইকারি পর্যায় থেকে খুচরা পর্যায়ে মুনাফা কত হবে, তা নির্ধারণে একটি নির্দেশনা প্রদানের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান এবং এক্ষেত্রে ক্যাশ মেমো ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব করেন তিনি। এছাড়া তিনি লকডাউন সময়ে পাইকারি বাজারগুলোতে বিশেষ করে রাতের বেলায় নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েতুল্লাহ জানান, গরম মসলার মজুদের কোনো স্বল্পতা নেই, তাই এ ধরনের পণ্যের কোনো দাম বৃদ্ধি পাওয়া উচিত নয়। তিনি নিত্যপণ্যের পাইকারি বাজার সীমিত পর্যায়ে খোলা রাখার আহ্বান জানান।

মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে কোনো পণ্যের মজুদের স্বল্পতা নেই এবং রমজানে তাদের সবগুলো টিম সপ্তাহে সাতদিন কাজ করবে। এছাড়া মাংসের দাম নির্ধারণের একটি নির্দেশনা দেয়ার জন্য সিটি করপোরেশনের প্রতি আহ্বান জানান। তাহের জামিল বলেন, বর্তমানে ২২৭টি পণ্যে বিএসটিআইয়ের মান নিয়ন্ত্রণ সনদ প্রদান করেছে এবং মানুষের মানসম্মত পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিতকল্পে বিএসটিআই পক্ষ থেকে ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করেছে, পণ্য পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিগুলো সীমিত আকারে খোলা রয়েছে, সার্ভিলেন্স কার্যক্রম বৃদ্ধি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..