প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

রাইট ও আইপিও ইস্যু: বছরজুড়ে ১২শ কোটি টাকা উত্তোলন

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ ও নিয়াজ মাহমুদ: প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ও রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে চলতি বছর পুঁজিবাজার থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে ১৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে ১১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে প্রায় সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আটটি কোম্পানি ৬৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা আর তিনটি মিউচুয়াল ফান্ড ১৯০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। অন্য তিনটি কোম্পানি রাইট শেয়ার ইস্যু করে উত্তোলন করে ৩৬৬ কোটি টাকা। কোম্পানি তিনটি হচ্ছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, জিপিএইচ ইস্পাত ও বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম। এদিকে চলতি বছর পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের কার্যক্রম শেষ হলেও এখনও তালিকাভুক্ত হতে পারেনি প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড ও দুটি ফান্ড।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরে আইপিও মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা কোম্পানিগুলো হলো ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং লিমিটেড, এক্মি ল্যাবরেটরিজ, ডরিন পাওয়ার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, ইভিন্স টেক্সটাইল, ইয়াকিন পলিমার, ফরচুন সুজ ও প্যাসিফিক ডেনিমস। এছাড়া একই সময়ে টাকা উত্তোলন সম্পন্ন করা তিনটি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে রয়েছে ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১ ও এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড।

২০১৫ সালে ১১টি কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে ২৭৯ কোটি ছয় লাখ ৬২ হাজার টাকার পরিশোধিত মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পায়। এছাড়া, প্রিমিয়াম বাবদ সংগ্রহের অনুমোদন পায় ৪৯৪ কোটি ৬৫ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা। এর আগের বছরের তুলনায় আইপিও অনুমোদনের পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ২০১৪ সালে ১৯টি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দিয়েছিল। ওই সময় বাজারে আসা বেশ কিছু কোম্পানি নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কে ২০১৫ সালে বিএসইসি সতর্ক হওয়ায় আইপিওর অনুমোদন সংখ্যা কমেছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

২০১৫ সালে অনুমোদন পাওয়া কোম্পানি বস্ত্র খাতের ড্রাগন সোয়েটার টাকা উত্তোলন করেছে চলতি বছরের শুরুতে। কোম্পানটি আইপিওর মাধ্যমে কোনো প্রকার প্রিমিয়াম ছাড়া ১০ টাকা মূল্যের চার কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। আর পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত টাকায় মেশিন ক্রয়, বিল্ডিং ও সিভিল কনস্ট্রাকশন, স্পেয়ার পার্টস ক্রয়, চলতি মূলধন এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করে।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এক্মি ল্যাবরেটরিজ-এর মূলধন রয়েছে ২১১ কোটি ৬০ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১৬১ কোটি ৬০ লাখ ১৭ হাজার টাকা উদ্যোক্তাদের, আর বাকি ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে আইপিও’র মাধ্যমে। এ কোম্পানির সাবস্ক্রিপশন চলতি বছর ১১ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত চলে। এক্মি ল্যাবরেটরিজ শেয়ারপ্রতি প্রিমিয়াম নিয়েছে ৬৭ টাকা, যা মোট শেয়ারে প্রিমিয়ামের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি ডরিন পাওয়ার-এর মূলধন রয়েছে ৮০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৬০ কোটি টাকা উদ্যোক্তাদের আর বাকি ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে আইপিওর মাধ্যমে। কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি প্রিমিয়াম নিয়েছে ১৯ টাকা, যা মোট শেয়ারে প্রিমিয়ামের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮ লাখ টাকা।

অন্যদিকে বীমা খাতের কোম্পানি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের মূলধন রয়েছে ৪৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ উদ্যোক্তাদের, আর বাকি ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে আইপিওর মাধ্যমে। একইভাবে বস্ত্র খাতের কোম্পানি ইভিন্স টেক্সটাইলের মূলধন রয়েছে ১২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০৩ কোটি টাকা উদ্যোক্তাদের, আর বাকি ১৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে আইপিওর মাধ্যমে।

চামড়া খাতের কোম্পানি ফরচুন সুজ-এর মূলধন ৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭৫ কোটি টাকা উদ্যোক্তাদের, আর বাকি ২২ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে আইপিওর মাধ্যমে। এ কোম্পানির সাবস্ক্রিপশন চলে চলতি বছরের ১৬ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত।

প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ইয়াকিন পলিমার পুঁজিবাজারে দুই কোটি শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। কোম্পানিটির অভিহিত মূল্য ছিল ১০ টাকা। ২০ কো?টি টাকা দিয়ে মেশিনারিজ ক্রয়, কারখানা ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় করছে কোম্পানিটি।

প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে সাড়ে সাত কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৭৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে। উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ সালের সমাপ্ত বছরের হিসাব অনুযায়ী কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দুই টাকা ৬৩ পয়সা, নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ২২ টাকা ৫৯ পয়সা।

এদিকে চলতি বছর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড আইপিওর মাধ্যমে তুলেছে ৯৫ কোটি টাকা, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ৭০ কোটি টাকা এবং এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড বাজার থেকে তুলেছে ২৫ কোটি টাকা।

ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড একটি মেয়াদি ফান্ড। চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে এ ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফান্ডটির আকার ২০০ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ১০ বছর। ফান্ডটির উদ্যোক্তা রূপালী ব্যাংকের অংশ ৪০ কোটি টাকা এবং প্রি-আইপিও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে আগে উত্তোলন করা হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ৯৫ কোটি টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়, যা আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলন কর হয়।

মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের আইপিও আবেদনে চলে ১৬ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের আকার ১০০ কোটি টাকা এবং প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা অংশের ১০ কোটি টাকা এবং প্রি-আইপিও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ২০ কোটি টাকাসহ মোট ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। বাকি ৭০ কোটি টাকা আইপিওর মাধ্যমে সব বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়।

১০ বছর মেয়াদি এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ডটির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তার অংশ ৫০ কোটি টাকা। প্রি-আইপিও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে। বাকি ২৫ কোটি টাকা সব বিনিয়োগকারীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। ফান্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ছিল ১০ টাকা। ফান্ডটির আইপিও আবেদন চলে চলতি মাসের ১১ থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, এ বছর যে কোম্পানিগুলো বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, সেগুলোর বেশিভাগই মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি। এ ধরনের কোম্পানির কাছ থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত হওয়ার সুযোগ কম থাকে। একটি বিষয় নজর রাখা দরকার, সেটা হচ্ছে বাজারে কোম্পানি কম আসলেও তা যেন মৌলভিত্তিসম্পন্ন হয়।

এদিকে চলতি বছরে পুঁজিবাজার থেকে রাইট শেয়ার ছেড়ে অর্থ উত্তোলন করেছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, জিপিএইচ ইস্পাত এবং বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম। প্রতিষ্ঠান তিনটি মোট ৩৬৫ কোটি ৮১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বাজার থেকে উত্তোলন করে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে এসব কোম্পানির মধ্যে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট ১০ টাকার শেয়ারের সঙ্গে পাঁচ টাকা প্রিমিয়ামসহ ১৫ টাকা ইস্যুমূল্যে মোট ৫১ কোটি ৫২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, জিপিএইচ ইস্পাত ১০ টাকার শেয়ারের সঙ্গে চার টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ১৪ টাকা ইস্যুমূল্যে ২৬১ কোটি ৯৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম ১০ টাকার শেয়ার ছেড়ে ৫২ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেবা ও আবাসন খাতের কোম্পানি সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড পাঁচটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার প্রদান করে। কোম্পানিটি ১০ টাকা ফেসভ্যালুর সঙ্গে পাঁচ টাকা প্রিমিয়ামসহ ১৫ টাকা অনুযায়ী তিন কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৬টি শেয়ারের বিপরীতে রাইট শেয়ার ছাড়ে। কোম্পানির এ টাকা দিয়ে জমি ক্রয় ও মেয়াদি ঋণ পরিশোধ করবে। ৩০ জুন ২০১৫ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ২৮ টাকা। ১ জানুয়ারি ২০১০ থেকে ৩০ জুন ২০১৫ সময়কালে কোম্পানিটির ওয়েটেড এভারেজ শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ৪৪ পয়সা।

অন্য কোম্পানি জিপিএইচ ইস্পাত চার টাকা প্রিমিয়ামসহ ১৪ টাকা ইস্যুমূল্যে রাইট শেয়ার ছাড়ে। এ কোম্পানিটি ২টি শেয়ারের বিপরীতে তিনটি শেয়ার বাজারে ছাড়ে। কোম্পানিটি এর মাধ্যমে ১৮ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার শেয়ার ছেড়ে ২৬১ কোটি ৯৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করে।

রাইট শেয়ারের ডকুমেন্ট অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৯৯ টাকা। রাইট শেয়ারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করার কথা রয়েছে। রাইটের আগে কোম্পানিটি বছরে এক লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন বার ও এক লাখ ২০ হাজার টন রড উৎপাদন করে। সম্প্রসারণের পর বার উৎপাদনের ক্ষমতা বেড়ে হবে আট লাখ ৪০ হাজার টন এবং রড উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে ছয় লাখ ৪০ হাজার টন হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে বিডি থাই একটির বিপরীতে একটি শেয়ার ইস্যু করে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে কোম্পানি মোট পাঁচ কোটি ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৮টি শেয়ার বিক্রি করে মোট ৫২ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ২৮০ টাকা উত্তোলন করে।

রাইট শেয়ারের মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো ও আংশিক ঋণ পরিশোধ করার কথা রয়েছে। সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন (৩০ জুন ২০১৫) অনুযায়ী কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ৪৭ দশমিক ৯৪ টাকা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ১ দশমিক শূন্য ৩ টাকা।

একই বিষয়ে ডিএসইর সাবেক পরিচালক এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ভালো কোম্পানির বাজারে আসা অবশ্যই ভালো খবর। তবে যারা আইপিও ও অর্থ দিয়ে নিজেদের ঋণ পরিশোধ করতে চায়, তাদের বিষয়ে আরও বেশি নজরদারি দেওয়া উচিত। কারণ এদের উদ্দেশ থাকে অন্যের টাকায় নিজের ঋণ পরিশোধ করা। তারা বিনিয়োগকারীদের কিছু দিতে পারে না।